অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি না পাওয়ায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান উপমহাপরিদর্শক আলী আকবর খান অবসর-পূর্ব ছুটির আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পুলিশের পাঁচজন উপমহাপরিদর্শককে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের তালিকায় আলী আকবর খানের নাম না থাকায় তার ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর পরপরই তিনি অবসর-পূর্ব ছুটির আবেদন করেন।
গত ১ জুন পুলিশ সদর দপ্তর আলী আকবর খানকে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয়। একাধিক সূত্রের দাবি, তাকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে সিআইডির প্রধান করার প্রস্তাব প্রশাসনিক পর্যায় থেকে পাঠানো হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তার পদোন্নতি হয়নি। তার অবসর-পূর্ব ছুটির আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কি না কিংবা তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন কি না, সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা আসেনি।
বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে আলী আকবর খান বলেন, এটি তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। এ নিয়ে তিনি গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে চান না। অন্যদিকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।
এদিকে তার অবসর-পূর্ব ছুটির আবেদন ও স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের সিদ্ধান্ত ঘিরে দুটি সরকারি নথি সামনে এসেছে। এর একটি আলী আকবর খানের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র এবং অন্যটি আবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়ে সিআইডির প্রশাসনিক পত্র।
আবেদনে আলী আকবর খান উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের আমলে ২০০৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম সদস্য হিসেবে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয় এবং ২০২২ সালের ৭ এপ্রিল তিনি চাকরিচ্যুত হন। প্রায় ১৬ বছর চাকরির বাইরে থাকার পর ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তিনি পুনর্বহাল হন।
তিনি আবেদনে বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হওয়ায় চাকরিতে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এজন্য তিনি নিহত ও আহত ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ১৯৯৫ সালের ১৫ নভেম্বর চাকরিতে যোগদানের পর থেকে সততা, দক্ষতা ও সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের কথাও উল্লেখ করেন।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, ৪ জুন জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতির প্রজ্ঞাপনে তার নাম না থাকায় তিনি মনে করছেন, কোনো জানা-অজানা অযোগ্যতার কারণে আবারও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। এ অবস্থায় নিজের অযোগ্যতা নিয়ে সরকারের বোঝা না হয়ে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করতে চান।
তিনি আগামী ২ জুলাই ২০২৬ থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং ওই তারিখ থেকে এক বছরের অবসর-পূর্ব ছুটি মঞ্জুরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে একই দিনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এ এ এম হুমায়ুন কবীরের স্বাক্ষরিত এক পত্রে আলী আকবর খানের আবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পত্রে বলা হয়, তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৪ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে আলী আকবর খানকে ঘিরে ২০০৬ সালের একটি আলোচিত ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ওই বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দায়িত্ব পালনকালে এক জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সে সময় ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
সানা/আপ্র/৫/৬/২০২৬