সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে আলোচনায় আসা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সর্বশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উত্থাপিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব তিনজন এমফিল গবেষকের কাছ থেকে গবেষণার সিনোপসিস কম্পোজের জন্য টাইপিস্টের পারিশ্রমিক বাবদ ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এছাড়া এক পিএইচডি গবেষকের কাছে তত্ত্বাবধায়কের পারিশ্রমিক বাবদ অর্থও দাবি করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলা বিভাগের পিএইচডি গবেষক সুশান্ত কুমার সরকার এবং এমফিল গবেষক মো. আব্বাস আলী, রওশন জাহান মৌসুমী ও নুসরাত জাহান শুচি অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আনেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ওই বছরের ২৬ আগস্ট উপাচার্য একটি তথ্যানুসন্ধান কমিটি গঠন করেন। কমিটি চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিভাগের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষকদের তত্ত্বাবধায়ক পরিবর্তনের জন্য বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম প্রয়োজনীয় ফরমে স্বাক্ষরের অনুরোধ জানালেও অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব তাতে সাড়া দেননি। ফলে সংশ্লিষ্ট চার গবেষকের গবেষণাকর্ম স্থবির হয়ে পড়ে এবং তারা একাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ পরিস্থিতিতে ওই গবেষকদের জন্য নতুন তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগের সুপারিশ করে তথ্যানুসন্ধান কমিটি। একই সঙ্গে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভাগে তার কক্ষেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে মঙ্গলবার তিনি বলেন, অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একাডেমিক কার্যক্রমবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রশাসনের কাছে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। বৃহস্পতিবার বিভাগে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী মঙ্গলবার বলেন, আর্থিক অনিয়ম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরে অধ্যাপক তাশরিক-ই-হাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। শাহ আব্দুল করিম, জেমস ও ফজলুর রহমান বাবুর গান পরিবেশন করে তিনি অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে একদিকে যেমন প্রশংসা কুড়ায়, অন্যদিকে ভিন্নধর্মী উপস্থাপনার কারণে সমালোচনা ও বিদ্রূপেরও মুখে পড়ে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের বিষয়বস্তু তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার নিয়েও শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে সমালোচনার জন্ম হয়।
সানা/আপ্র/২৬/৬/২০২৬