গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, আগস্টেই কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:২১ পিএম, ৩১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১২:০৬ এএম ২০২৬
খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার, আগস্টেই কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য
ছবি

বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন -ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো আবার শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহ নাগাদ নতুন প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া একটি নতুন, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মাহ্দী আমিন। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ২৮ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী রামানন রামাকৃষ্ণনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শেষে এই সংবাদ সম্মেলন করে।

মাহ্দী আমিন বলেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো কার্যকর, প্রতিযোগিতামূলক ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ব্যয়, নিয়োগ পদ্ধতি এবং নতুন কার্যপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।

তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মালয়েশিয়া সরকারের কাছে ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা পাঠানো হয়েছিল। বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে কতটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দুর্নীতি, অনিয়ম, সিন্ডিকেটভিত্তিক কার্যক্রম বা অতীতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে-এমন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার সমর্থন করবে না।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো একটি উন্মুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক, জবাবদিহিমূলক ও সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সাধারণ কর্মীরা কম খরচে এবং হয়রানিমুক্তভাবে মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

মাহ্দী আমিন আরো বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দুই দেশের হাইকমিশন এবং কারিগরি পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রক্রিয়াগত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করবেন।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাঁদের শ্রম দেশটির শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক এখন শ্রম অভিবাসনের বাইরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘদিনের জটিলতার পর ফের আশার আলো: এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমিকদের বড় একটি গন্তব্য। সরকারি হিসাবে বর্তমানে দেশটিতে ৮ থেকে ৯ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মরত রয়েছেন। এ ছাড়া অনিয়মিত অবস্থায় থাকা আরো কয়েক হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়।

বাংলাদেশিরা মূলত উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ, পাম অয়েল বাগান, কৃষি, সেবা খাত ও পরিচ্ছন্নতা খাতে কাজ করেন।

তবে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেটের আধিপত্য, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সীমিতসংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেক কর্মী ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

২০২৪ সালের ৩১ মে মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবেশ করতে না পারায় অনেক কর্মীর নিয়োগ বাতিল হয়ে যায়।

এরপর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হয়। গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর এ বিষয়ে আলোচনা নতুন গতি পায়।

বাংলাদেশ হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/৩১/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে