জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়লেও জনদুর্ভোগ নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভাড়া দেওয়া বাড়িতে মাদক উদ্ধার ও ৮৪ জনকে গ্রেফতারের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
রাজধানীর খিলক্ষেতের পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শকের ভাড়া দেওয়া বাড়িতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার এবং ৮৪ জনকে গ্রেফতারের খবরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “পুলিশে কর্মরত একজন ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।”
পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।”
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যাও তো রয়েছেই।”
সরকারের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “এসব জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত। হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ!”
পোস্টের শেষাংশে তরুণদের আবারও জেগে ওঠার আহ্বান জানান জামায়াতের আমির।
সানা/আপ্র/২১/১০/২০২৬