গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাবে ঢাকা: ২০৩০ সালে ক্ষতি ৪ লাখ ৬৫ হাজার চাকরির সমান, বাড়বে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:৩১ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৪২ এএম ২০২৬
তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাবে ঢাকা: ২০৩০ সালে ক্ষতি ৪ লাখ ৬৫ হাজার চাকরির সমান, বাড়বে অর্থনৈতিক ঝুঁকি
ছবি

তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি কর্মঘণ্টা হারাবে ঢাকা: ২০৩০ সালে ক্ষতি ৪ লাখ ৬৫ হাজার চাকরির সমান, বাড়বে অর্থনৈতিক ঝুঁকি

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়তে থাকা তীব্র তাপপ্রবাহে দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে ঢাকা। কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার দিক থেকে এ অঞ্চলের অন্য বড় শহরগুলোর তুলনায় ঢাকার ক্ষতির পরিমাণ হবে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন ‘বসবাসযোগ্য ভবিষ্যৎ: দক্ষিণ এশিয়ার শহরে চরম তাপের মধ্যে কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি সুরক্ষার উপায়’-এ বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় তাপপ্রবাহের কারণে নষ্ট হওয়া কর্মঘণ্টা ৪ লাখ ৬৫ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ হবে। এটি ওই সময়ে ঢাকার মোট কর্মঘণ্টার প্রায় ৩ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এ ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। ২০৫০ সালে ঢাকায় তাপজনিত কর্মঘণ্টা ক্ষতি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৭ লাখ ৮ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণে। আর ২০৮০ সালে এ ক্ষতি পৌঁছাতে পারে প্রায় ১৬ লাখ ৫০ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমান। তখন তাপের কারণে কর্মঘণ্টা হারানোর হার দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ার আটটি বড় শহরের তাপজনিত ক্ষতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। শহরগুলো হলো ঢাকা, নয়াদিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, আহমেদাবাদ, সুরাট ও বারানসি। এতে দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মঘণ্টা ক্ষতির দিক থেকে ঢাকার পর রয়েছে কলকাতা ও নয়াদিল্লি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩০ সালে কলকাতায় তাপের কারণে ক্ষতি হবে প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার এবং নয়াদিল্লিতে প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার পূর্ণকালীন চাকরির সমপরিমাণ। একই সময়ে মুম্বাইয়ে ২ লাখ ৪ হাজার, চেন্নাইয়ে ১ লাখ ৪১ হাজার, আহমেদাবাদে ৯৯ হাজার, সুরাটে ৯৭ হাজার এবং বারানসিতে ৫১ হাজার পূর্ণকালীন কাজের সমপরিমাণ ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর। অতিরিক্ত গরমে মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালে তাপপ্রবাহের কারণে দেশের অর্থনীতিতে আনুমানিক ১৩০ কোটি থেকে ১৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এটি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় শূন্য দশমিক ৩ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশের সমান। তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে উঠলে এই ক্ষতির হার আরো দ্রুত বাড়ে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমান তাপপ্রবাহ অতীতের তুলনায় ভিন্ন মাত্রার। এখন তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন হচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং তীব্রতাও বাড়ছে। ভারত, বাংলাদেশ ও নেপালের ৭০ কোটির বেশি মানুষ এমন এলাকায় বসবাস করছে, যেখানে বছরে অন্তত একদিন তাপমাত্রা মানুষের সহনক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে যায়। প্রায় ১২ কোটি মানুষ প্রতিবছর অন্তত এক মাস চরম তাপের মুখোমুখি হন।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। বলা হয়েছে, চরম তাপের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদনশীলতা কমছে। কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার পোশাক খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি ক্ষতি হতে পারে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৫৮০ কোটি ডলার।

তবে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থায় বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশবান্ধব রূপান্তর তহবিলের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পানিসাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ও উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা ২৭০ ছাড়িয়েছে।

তাপের ক্ষতি মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। ভারতের আহমেদাবাদে তাপ মোকাবিলা পরিকল্পনার উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, এ ধরনের উদ্যোগের ফলে তীব্র তাপপ্রবাহে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, আরেক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাপজনিত চাপে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি ও নির্মাণ খাতের শ্রমিকেরা বছরে গড়ে ২৩ দশমিক ৭৫ কর্মদিবসের সমপরিমাণ কাজ হারাতে পারেন। বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মরত শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে না, এটি মানুষের স্বাস্থ্য, আয় ও জীবনযাত্রার ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে গরমজনিত অসুস্থতা ও আয় কমে যাওয়ার কারণে নতুন করে দারিদ্র্য বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সানা/আপ্র/০২/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের দরিদ্রতম ৩৫০ কোটি মানুষের মোট নিঃস...

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন
২৫ অক্টোবর ২০২৬

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন

সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে