বিপিএলে দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে আরও দুইজনের বিরুদ্ধে। তাদের একজন আব্দুল কাইয়ুম রাশেদ ছিলেন গত আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী। আরেকজন আমিন খান গত আসরে একই ফ্র্যাঞ্চাইজির অপারেশন্স ম্যানেজার ছিলেন। এর আগের আসরে তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন দুর্বার রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজিতে।
অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী ধারার আওতায় শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে তাদের।
বিসিবি বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিপিএলের একাদশ ও দ্বাদশ আসরের দুর্নীতিমূলক আচরণ, দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতি দমন তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থতা এবং তদন্তে বাধা বা বিলম্বের অভিযোগে বোর্ডের ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।
বিপিএলের গত আসর শুরুর ঠিক আগে দলের মালিকানা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন রাশেদ। পরে তড়িঘড়ি করে বিসিবিই দায়িত্ব নিয়ে দলটি পরিচালনা করে। আগের আসরে দুর্বার রাজশাহী ফ্র্যাঞ্চাইজি ঘিরেই বিতর্ক ও অভিযোগ ছিল বিস্তর।
বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে এই মাসেই সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো মোট পাঁচজনকে।
এবার সাময়িক বহিষ্কার হওয়া দুজনের বিরুদ্ধেই দুর্নীতিবিরোধী চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আব্দুল কাইয়ুম রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর একটি হলো কোনো ম্যাচ বা ম্যাচসমূহের ফলাফল, অগ্রগতি, আচরণ বা অন্য কোনো দিককে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করা, প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করা বা অন্য কোনোভাবে প্রভাবিত করা, অথবা অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করার জন্য কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার পক্ষ হওয়া।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হলো দুর্নীতিমূলক আচরণে জড়িত হওয়ার জন্য পাওয়া কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের সম্পূর্ণ বিবরণ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়া; সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে কোনো তদন্তে জোরালো কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকার করা, যার মোবাইল ডিভাইস জমা দেওয়ার দাবি মেনে চলতে ব্যর্থতাও অন্তর্ভুক্ত; এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য তার প্রধান মোবাইল ডিভাইসটি সরবরাহ করতে অস্বীকার করার মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব করা।
রাশেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর প্রথমটি, তৃতীয় ও চতুর্থটি আমিন খানের বিরুদ্ধেও আনা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরেকটি অভিযোগ হলো, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক আচরণে লিপ্ত হতে প্ররোচিত করা, উৎসাহিত করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করা।
আমিন খান দীর্ঘদিন বিসিবিতে বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছেন। তাকে নিয়ে আগেও নানা সময়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল।
বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে গত ১ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয় বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক প্রধান মুখলেসুর রহমান শামীম, বিসিবির সাবেক নিরাপত্তা সংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানিকে।
ডিসি/ আপ্র/১৭/০৯/২০২৬