২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের টিকিট বিক্রির প্রথম ধাপেই দেখা দিয়েছে নজিরবিহীন মূল্যবৃদ্ধি। উন্মুক্ত বিক্রিতে ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের সর্বোচ্চ দাম ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৯৯০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটিই ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্য বলে ধরা হচ্ছে।
অথচ আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর প্রাথমিক প্রস্তাবে ফাইনালের টিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৫৫০ ডলার। গত ডিসেম্বরেও সীমিত পরিসরে বিক্রিত টিকিটের দাম ছিল সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৬৮০ ডলার। নতুন দফায় উন্মুক্ত বিক্রিতে তা আরো বেড়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশ।
এর আগে ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে সেরা গ্যালারির টিকিটের দাম ছিল ১ হাজার ৬০৪ ডলার। সেই তুলনায় এবারের মূল্যবৃদ্ধি নজিরবিহীন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির টিকিটের দামও যথাক্রমে প্রায় ৭ হাজার ৩৮০ ডলার ও ৫ হাজার ৭৮৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছে।
ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা টিকিটের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা প্রকাশ করেনি। তারা ‘চাহিদাভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ’ পদ্ধতি অনুসরণ করছে, যার ফলে সময় ও চাহিদা অনুযায়ী টিকিটের দাম পরিবর্তিত হচ্ছে। এ কারণে টিকিটের প্রকৃত কাঠামো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
টিকিটের এই অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অনেকেই একে ফুটবলপ্রেমীদের সঙ্গে অন্যায্য আচরণ হিসেবে দেখছেন। যদিও স্বল্পমূল্যের কিছু টিকিটের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, উন্মুক্ত বিক্রিতে উচ্চমূল্যই প্রধান হয়ে উঠেছে।
এদিকে টিকিট কেনার প্রক্রিয়াও ছিল জটিল ও বিভ্রাটপূর্ণ। দীর্ঘ সময় ভার্চ্যুয়াল লাইনে অপেক্ষার পর অনেকেই কারিগরি সমস্যার কারণে টিকিট কিনতে পারেননি। ভুল ক্যাটাগরিতে প্রবেশ, কোডসংক্রান্ত জটিলতা এবং বারবার লাইনে দাঁড়ানোর কারণে বহু সমর্থক টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ১১ জুন এবং ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ১৯ জুলাই, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর টিকিটের প্রকৃত মূল্য ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
পুনর্বিক্রয়ের বাজারে পরিস্থিতি আরো বিস্ময়কর। সেখানে একটি ফাইনাল টিকিটের দাম ৮২ হাজার ৭৮০ ডলার পর্যন্ত চাওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি। এমনকি সবচেয়ে কম দামের টিকিটও ২৭ হাজার ডলারের নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
করপোরেট প্যাকেজের ক্ষেত্রেও মূল্য আকাশচুম্বী। একটি বিলাসবহুল স্যুইট প্যাকেজের দাম ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ডলার, যেখানে ২৪টি টিকিটসহ অন্যান্য সুবিধা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও সমর্থক সংগঠনগুলোর মতে, টিকিট বিক্রির এই অস্বচ্ছতা ও উচ্চমূল্য বিশ্বকাপকে সাধারণ দর্শকের নাগালের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। জীবনে একবার বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন অনেকের জন্য অধরাই থেকে যাচ্ছে।
সানা/আপ্র/৩/৪/২০২৬