দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ভিনিসিউস জুনিয়রের জোড়া গোল, প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে নেইমারের প্রত্যাবর্তন এবং দাপুটে পারফরম্যান্সে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ব্রাজিল। একই সঙ্গে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষ দল হিসেবেও শেষ করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ফ্লোরিডায় বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারায় কার্লো আনচেলত্তির দল। ব্রাজিলের হয়ে দুটি গোল করেন ভিনিসিউস জুনিয়র, অন্য গোলটি মাতেউস কুইয়ার।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল। একই সময়ে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে উঠেছে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্কটল্যান্ড, আর তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে হাইতির।
৪৮ দলের বিশ্বকাপে ১২টি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় দল নিয়ে গঠিত হবে নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ। ফলে তৃতীয় স্থানে থাকা স্কটল্যান্ডেরও পরবর্তী পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। বলের দখলে এগিয়ে থাকা দলটি ২১টি শট নেয়, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। স্কটল্যান্ডের ১৪টি শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৫টি।
সপ্তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ভিনিসিউস। গোলরক্ষকের পাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। সেই সুযোগে বল পেয়ে গোলরক্ষককে কাটিয়ে সহজেই জালে বল পাঠান রেয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড।
এই গোলের মাধ্যমে ব্রাজিলের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়েন ভিনিসিউস। এর আগে জাইরজিনিয়ো, রোমারিও, রোনালদো ও রিভালদো একই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন, আর তাদের প্রত্যেকের সময়েই শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল।
২২তম মিনিটে আবারও বল জালে জড়ান ভিনিসিউস। তবে ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় গোলটি বাতিল করা হয়। বল দখলে নেওয়ার সময় স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রিকে ফাউল করেছিলেন তিনি।
প্রথমার্ধে দুই দলই একাধিক আক্রমণ গড়লেও শেষ মুহূর্তে সফল হতে পারেনি। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ভিনিসিউসের বাড়ানো বলে কুইয়ার শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন হেনড্রি।
তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস। ব্রুনো গিমারেসের ক্রসে স্কটিশ গোলরক্ষক বল মিস করলে দূরের পোস্টে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার চতুর্থ গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে স্কটল্যান্ড কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও ব্রাজিলের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। ৫১তম মিনিটে হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েও সফল হননি ভিনিসিউস।
অবশেষে ৬০তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন মাতেউস কুইয়া। ব্রুনো গিমারেসের চমৎকার পাস থেকে বল পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে জালে পাঠান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এরপর কয়েকবার সুযোগ পেলেও আর গোল বাড়াতে পারেনি ব্রাজিল। অন্যদিকে স্কট ম্যাকটমিনের একাধিক প্রচেষ্টা দক্ষতার সঙ্গে প্রতিহত করেন ব্রাজিল গোলরক্ষক আলিসন।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে দর্শকদের উচ্ছ্বাসের মধ্যে মাতেউস কুইয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে ফেরেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার প্রত্যাবর্তনে গ্যালারিজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উচ্ছ্বাস।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। দারুণ ছন্দে নকআউট পর্বে ওঠা দলটি এখন শিরোপা লড়াইয়ের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করল। সূত্র: রয়টার্স, এএফপি
সানা/আপ্র/২৫/৬/২০২৬