গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

জয়ের পরও কেন কাঁদলেন মেসি? বিশ্ব গণমাধ্যমে অশ্রুসিক্ত এক কিংবদন্তির গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১:৫৪ পিএম, ০৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৭:০৭ এএম ২০২৬
জয়ের পরও কেন কাঁদলেন মেসি? বিশ্ব গণমাধ্যমে অশ্রুসিক্ত এক কিংবদন্তির গল্প
ছবি

জয়ের আনন্দে অঝোরে কাঁদলেন মেসি। আটলান্টা স্টেডিয়ামের ঢাউস স্ক্রিনেও ফুটে উঠল আর্জেন্টাইন মহাতারকার আনন্দাশ্রু ঝরার মুহূর্ত -ছবি রয়টার্স

শেষ বাঁশি বাজতেই যেন পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে বিস্ফোরিত হলো। আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ছুটে গেলেন একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু সেই মুহূর্তেই টেলিভিশনের ক্যামেরা খুঁজে নিল একজন মানুষকে। তিনি লিওনেল মেসি।

সতীর্থদের বুকে মুখ লুকিয়ে অঝোরে কাঁদছিলেন তিনি।

এটি পরাজয়ের কান্না নয়।

এটি ছিল বেঁচে থাকার কান্না। স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্ত থেকে ফিরে আসার কান্না। কোটি মানুষের প্রত্যাশার ভার কাঁধে নিয়ে আবারও অসম্ভবকে সম্ভব করার কান্না।

মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা শেষ ১৩ মিনিটে তিন গোল করে ৩-২ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে মেসির চোখের জল।

বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে সেই অশ্রুসিক্ত মুহূর্তকেই।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ লিখেছে, ”মেসির অনুপ্রেরণায় মিশরের বিপক্ষে দুই গোল পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছে আর্জেন্টিনা।”* প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পেনাল্টি মিস করার পরও হাল না ছেড়ে তিনি প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোকে দিয়ে গোল করান, পরে নিজেই সমতা ফেরান। ম্যাচ শেষে আবেগে ভেঙে পড়া মেসির অশ্রু যেন পুরো প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স লিখেছে, ”মাত্র ১১ মিনিট বাকি থাকতে দুই গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করে।” রয়টার্সের ভাষ্য, পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে মেসিই দলের পুনর্জাগরণের নেতৃত্ব দেন। একটি অ্যাসিস্ট, একটি গোল এবং শেষ পর্যন্ত জয়ের পথ তৈরি করে তিনি আবারও প্রমাণ করেন, সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও তিনিই আর্জেন্টিনার ভরসা।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) লিখেছে, ”লিওনেল মেসি আবারও করে দেখালেন।” প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্র ১১ মিনিট হাতে থাকতে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও আর্জেন্টিনা ফিরে এসেছে। আর শেষ বাঁশির পর অশ্রুসিক্ত মেসির ছবি হয়ে উঠেছে পুরো ম্যাচের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতীক।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামেই লিখেছে, ”অশ্রুসিক্ত মেসির উদ্যাপন।” তারা বলেছে, মিশরের কাছে অবিশ্বাস্য বিদায়ের শঙ্কা থেকে ফিরে এসে আর্জেন্টিনা শুধু কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেনি, মেসির বিশ্বকাপ-যাত্রাও আরো দীর্ঘ করেছে। সেই স্বস্তিই ধরা পড়েছে তার চোখের জলে।

ব্রাজিলের ক্রীড়া পোর্টাল ‘গে গ্লোবো’ লিখেছে, ”দুই গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় একটি গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার পর মাঠেই কেঁদে ফেলেন মেসি।”* তাদের ভাষ্য, প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করে তিনি প্রায় খলনায়কে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে ওঠেন নায়ক।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’ লিখেছে, ”ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর মাঠেই অনেকক্ষণ কেঁদেছেন মেসি।”* সতীর্থদের আলিঙ্গনে তার আবেগঘন মুহূর্তকে তারা বিশ্বকাপের অন্যতম স্মরণীয় দৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ভারতের ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ লিখেছে, ”মেসির অনুপ্রেরণায় অলৌকিক প্রত্যাবর্তন করে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা।” সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, শেষ ১১ মিনিটে তিন গোল করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা শুধু ম্যাচই জেতেনি, আবারও দেখিয়েছে কেন তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।

আসলে এই কান্নার পেছনে ছিল আরো গভীর এক গল্প।

৩৯ বছর বয়সী মেসির জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ। ৬৭ মিনিট পর্যন্ত সবকিছুই বলছিল—এখানেই শেষ হয়ে যাবে তার বিশ্বকাপ অধ্যায়। পেনাল্টি মিস করেছেন, দল দুই গোলে পিছিয়ে, প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে।

কিন্তু যাঁরা মেসিকে চেনেন, তাঁরা জানেন—তিনি শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত হেরে যান না।

৭৯ মিনিটে তার পায়ের জাদুতে রোমেরোর গোল। ৮৩ মিনিটে নিজের গোল। যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের জয়সূচক হেড।

মাত্র ১৩ মিনিটে বদলে যায় ইতিহাস।

তাই শেষ বাঁশি বাজার পর চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি মেসি।

সেটি ছিল না কেবল একটি ম্যাচ জেতার আনন্দ।

সেটি ছিল কোটি মানুষের স্বপ্নকে আরো কয়েকটি দিনের জন্য বাঁচিয়ে রাখার স্বস্তি।

সেটি ছিল বিদায়ের দরজা থেকে ফিরে আসা এক কিংবদন্তির নীরব আর্তনাদ।

সেটি ছিল এমন এক কান্না, যা বুঝিয়ে দেয়—রেকর্ড, ট্রফি আর অগণিত সাফল্যের আড়ালেও লিওনেল মেসি শেষ পর্যন্ত একজন রক্ত-মাংসের মানুষ।

আর কখনো কখনো, একজন কিংবদন্তির চোখের জলই হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর ভাষা।
সানা/আপ্র/৮/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে কমনওয়েলথ কাবাডির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে কমনওয়েলথ কাবাডির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

স্কটল্যান্ডকে ৭০-২০ পয়েন্টে হারিয়ে কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম আসরের সেমিফাইনালে উঠেছে বাং...

সেঞ্চুরির পরই ফিরলেন সাদমান, সাজঘরে তাওহীদও
২৯ অক্টোবর ২০২৬

সেঞ্চুরির পরই ফিরলেন সাদমান, সাজঘরে তাওহীদও

ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পরপরই আউট হয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার সাদমান ইসলাম। তাঁর বিদায়ের...

শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম, শেষ গোলে হার এড়ালো মেসিরা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম, শেষ গোলে হার এড়ালো মেসিরা

লিওনেল মেসির দল ইন্টার মায়ামি ও এফসি সিনসিনাতির মধ্যকার ম্যাচে শেষ ১০ মিনিটে হয়েছে তিনটি গোল। ৬০ মিন...

মুখ ঢেকে তর্ক, লাল কার্ডের পর তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ নেইমার
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মুখ ঢেকে তর্ক, লাল কার্ডের পর তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ নেইমার

ফুটবলের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হাত দিয়ে মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্ক করায় লাল কার্ড দেখেছিলেন ব্রাজিল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে