গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

মাদ্রিদের জনসমুদ্রে ভালোবাসায় সিক্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

ক্রীড়া ডেস্ক

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৩০ পিএম, ২১ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৬ এএম ২০২৬
মাদ্রিদের জনসমুদ্রে ভালোবাসায় সিক্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা
ছবি

মাদ্রিদের জনসমুদ্রে ভালোবাসায় সিক্ত বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা

নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন সোমবার দেশে ফিরে মাদ্রিদের রাস্তায় খোলা ছাদের বাসে বিজয় শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে বর্ণাঢ্য উদযাপন করেছে। প্রায় ২০ লাখ উচ্ছ্বসিত সমর্থক তাদের অভিনন্দন জানাতে রাস্তায় ভিড় করেন। প্রচন্ড রোদের মধ্যে শহরের প্রধান সড়কগুলো ধরে চলা শোভাযাত্রায় খেলোয়াড়রা পানীয় হাতে উদযাপনে মেতে ওঠেন। 

লাল-হলুদ রঙে সজ্জিত সমর্থকদের ঢল বাসটির অপেক্ষায় ছিল। পরে পুরো দল সিবেলেস স্কয়ারে পৌঁছে মঞ্চে উঠে গভীর রাত পর্যন্ত উৎসবে অংশ নেয়। দলের খেলোয়াড় ও প্রধান কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেকে একে একে সমর্থকদের সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যেকে নিজেদের পছন্দের গানের সঙ্গে মঞ্চে ওঠেন এবং “উই আর চ্যাম্পিয়ন্স” লেখা টি-শার্ট পরে সমর্থকদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান। 
ভিডিও বার্তায় পপ তারকা শাকিরা বলেন, “স্পেন বিশ্বকে দেখিয়েছে একসঙ্গে, এক মন ও এক হৃদয় নিযয়ে কাজ করার অর্থ কী।” কোচ ডি লা ফুয়েন্তেও একই ধরনের বার্তা দিয়ে তার খেলোয়াড়দের “বিশ্বের সেরা” বলে আখ্যায়িত করেন এবং সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “একসঙ্গে থাকলে আমরা আরও শক্তিশালী হবো।” এরপর খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলে ট্রফি হাতে দলীয় ছবি তোলেন। অধিনায়ক রদ্রি আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন, যেমনটি তিনি রোববার নিউ জার্সিতে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর করেছিলেন। 

যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাদ্রিদে ফেরার পর সোমবার সকালে খেলোয়াড়দের প্রথমে রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রাজপরিবার সংবর্ধনা জানান। এরপর তারা স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তারপরই বিজয় শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রার সময় খেলোয়াড়রা ঝকঝকে বিশ্বকাপ ট্রফি একে অপরের হাতে তুলে দেন। ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে স্পেন ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। রাজা ফিলিপ স্পেনের খেলোয়াড়দের উদ্দেশে বলেন, “তোমরা নিজেদের দৃঢ়তা, লড়াকু মানসিকতা ও সাহসের পরিচয় দিয়েছ। তোমরা হৃদয় ও মস্তিষ্ক- দুটিরই অসাধারণ সমন্বয় ঘটিয়েছ।” রাজদরবারে খেলোয়াড়রা আনুষ্ঠানিক স্যুট পরেছিলেন। তবে গরমের দিনে শোভাযাত্রার জন্য পরে তারা আরামদায়ক পোশাক পরেন।


দলের বাসের সামনে লেখা ছিল “বিশ্বের রাজারা”। আর সমর্থকেরা তাদের নায়কদের উদ্দেশে বারবার “চ্যাম্পিয়ন, চ্যাম্পিয়ন” ধ্বনি তুলছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জযয়ের পর দলকে বহনকারী আইবেরিয়া বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় রদ্রি মাথার ওপর বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন। ম্যানচেস্টার সিটির এই মিডফিল্ডার বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ অর্জন। রদ্রি বলেন, “আমি সবসময়ই বলেছি, দেশের হয়ে জেতার চেয়ে সুন্দর কিছু নেই, আর তার ওপরে যদি সেটা বিশ্বকাপ হয়।” 

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রজন্ম বড় হয়েছে ইকার ক্যাসিয়াস ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে বিশ্বকাপ তুলতে দেখে। আজ আমরা নিজেরা সেটা করতে পেরেছি। ফুটবলে এর চেয়ে বড় অর্জন আর নেই।” ১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইনিয়েস্তার অতিরিক্ত সমযয়ের গোলে স্পেন প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল। বর্তমানের অনেক তররুণ সমর্থকের তখন জন্মই হয়নি। ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী হেক্টর মোলার বলেন, “দ্বিতীয় তারকা পাওয়ায় আমি ভীষণ খুশি।” তিনি জানান, বাস শোভাযাত্রার সময় তিনি ফেরান তোরেস, টিনএজার তারকা লামিন ইয়ামাল এবং আর্সেনালের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনোকে দেখতে পেরেছেন।


হেক্টর বলেন, “এমন একটি দিন নিজের চোখে দেখা আর অন্যের মুখে শোনা- দুই অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা।” ফাইনালের জয়সূচক গোলদাতা ফেরান তোরেস মজা করে বলেন, “আমি তো সত্যিই উড়ছি!” যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দেশে ফেরার পর নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেন তিনি। স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের বিজয় শোভাযাত্রা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন মোনক্লোয়া থেকে শুরু হয়ে সিবেলেস স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। এটি স্পেন জাতীয় দলের ঐতিহ্যবাহী উদযাপনের স্থান। 

সেখানে সমর্থকেরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা আগে থেকেই জায়গা দখল করে অপেক্ষা করছিলেন। আনন্দ-উল্লাসে ভরা রাতের শেষ দিকে খেলোয়াড়রা কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তেকে কাঁধে তুলে নেন। স্পেনের নারী দলও ২০২৩ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল। ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একই সময়ে একটি দেশের পুরুষ ও নারী উভয় দলই বিশ্বকাপের শিরোপাধারী হলো। ২০৩০ সালে পর্তুগাল ও মরক্কোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপের আয়োজক হবে স্পেন। সেবার নিজেদের মাটিতে পুরুষ দল শিরোপা রক্ষার মিশনে নামবে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “বিশ্বকাপের ফাইনালে আমাদের রেকর্ড এখন দুইয়ে দুই। তাহলে ২০৩০ সালে তৃতীয় শিরোপার স্বপ্নই বা দেখব না কেন, বিশেষ করে যখন স্পেনই আয়োজকদের একটি?

ডিসি/আপ্র/২১/০৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ব্যাটিং ধসের পর বোলিংয়ে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাটিং ধসের পর বোলিংয়ে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিং বিপর্যয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। তবে দিনের শেষ ভাগ...

গাজার শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার
২৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজার শিশুদের জন্য ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ হামজার

ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিধ্বস্ত শিশুদের সহায়তায় ১০ লাখ পাউন্ডের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশি ব...

বিশাল জয়ের ম্যাচে কেইনকে গার্ড অব অনার বায়ার্নের
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশাল জয়ের ম্যাচে কেইনকে গার্ড অব অনার বায়ার্নের

ক্যারিয়ারে প্রথমবার ব্যালন দ’র জয়ের পর হ্যারি কেইনকে বিশেষ সম্মান জানিয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। বুধবার জা...

ইরাকে কম্পাউন্ড নারী এককে সোনা জিতলেন বন্যা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইরাকে কম্পাউন্ড নারী এককে সোনা জিতলেন বন্যা

ইরাকে এশিয়া কাপ ওয়ার্ল্ড র‍্যাঙ্কিং টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ধাপে কম্পাউন্ড নারী এককে সোনা জিতেছেন বাংল...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে