পূর্ব-মধ্য ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে বাংলাদেশের ওপর সরাসরি বড় কোনো ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়, এদিন সকাল ৬টায় সুস্পষ্ট লঘুচাপটি পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছিল। এটি আরো পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুনির্দিষ্ট লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যেই নিম্নচাপে এবং পরবর্তী এক-দুই দিনের মধ্যে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এটি আবহাওয়ার পরিস্থিতি ও মডেল বিশ্লেষণ অনুযায়ী ২৭ বা ২৮ অক্টোবরের দিকে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার একটি সম্ভাবনা রয়েছে।” তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে অতিক্রম করার সম্ভাবনা বেশি। ফলে বাংলাদেশের ওপর সরাসরি বড় ঝড়ের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। তবে এটি স্থলভাগের দিকে এগিয়ে উত্তরে অগ্রসর হলে দেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিভাগ রংপুর, রাজশাহী ও খুলনায় বৃষ্টিপাত হতে পারে।
নাজমুল হক আরো বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখানো হতে পারে। বর্তমান শুষ্ক মৌসুমে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম বৃষ্টিতে আলু, পেঁয়াজসহ শীতকালীন ফসলের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে।
সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবারের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
শনিবার সকাল ৬টার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সন্দ্বীপ ও চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৪/১০/২০২৬