নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুদিদোকানে ঢুকে জামায়াতের কর্মী মো. মিজানুর রহমান ওরফে নিজামকে গুলি করার ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতের এ ঘটনায় ছয়-সাতজন মুখোশধারী অংশ নেন। তাঁদের কারও হাতে বন্দুক, কারও হাতে টর্চলাইট ছিল। দোকানে ঢুকে গুলি করার পর ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটনাস্থল ছেড়ে যান অস্ত্রধারীরা।
মিজানুর রহমান পেশায় মুদিদোকানি। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ১ নম্বর আমানউল্লাহপুর ইউনিয়নের জিনু মার্কেটে নিজের দোকানে তাঁকে গুলি করা হয়। তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছয়-সাতজন মুখোশধারী ব্যক্তি মিজানুরের দোকানের সামনে আসেন। তাঁদের মধ্যে একজনের মাথায় হেলমেট ছিল। দুজনের হাতে টর্চলাইট এবং অন্যদের হাতে বন্দুক দেখা যায়। ধীর পায়ে দোকানের সামনে এসে হেলমেট পরা অস্ত্রধারী ব্যক্তি ভেতরে ঢুকে মিজানুরকে গুলি করেন। এ সময় অন্যরা দোকানের বাইরে পাহারায় ছিলেন। গুলি করার পরপরই তাঁরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
পাশের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলার দৃশ্য ধারণ হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভিডিওটি সংগ্রহ করেছে। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামসুজ্জামানও ভিডিও পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ওসি মোহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, ‘ভিডিও চিত্র দেখে এরই মধ্যে একাধিক অস্ত্রধারীর পরিচয় আমরা শনাক্ত করেছি। আশা করছি, শিগগিরই হামলাকারীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘শনিবার রাতের ওই ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশের অভিযান থেমে নেই। পুরো বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে।’
জামায়াতে ইসলামীর বেগমগঞ্জ উপজেলা শাখার আমির আবদুজ জায়েদের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের দুর্বৃত্তরা এ হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, কোনো কারণ ছাড়াই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর আগেও মিজানুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানান তিনি।
আমানউল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় বিএনপি নেতা বাহারুল ইসলাম ওরফে সুমন বলেন, ‘ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান অত্যন্ত ভদ্র ও শান্ত একজন মানুষ। তাঁর মতো একজন ভদ্র মানুষকে এভাবে গুলি করা হবে, এটা চিন্তাও করতে পারিনি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে অবৈধ অস্ত্রধারীদের তৎপরতায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ও অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরো কঠোর হওয়া দরকার।’
দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁরা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কেটের একাধিক দোকানি বলেন, অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে তাঁরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠবে। তখন ব্যবসা গুটিয়ে বাড়িতে বসে থাকা ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় থাকবে না।
সানা/আপ্র/১৯/১০/২০২৬