পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। সাইকেল বিতরণের তালিকা ও উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনিয়মের অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী সরকারি রাজস্বের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় ২০ জনকে সাইকেল, ১৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অভিযোগে আগস্টটিনা মরমু, পিতা ইলিয়াস মুর্মু, ঠিকানা- শাহাপাড়া, হাজীপুর, ৩ নম্বর বড়দরগা ইউনিয়নের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তার নামে বরাদ্দ করা সাইকেলের তালিকাভুক্ত ক্রমিক নম্বর ৬। তবে সংশ্লিষ্ট সাইকেল গ্রহণ ও উপকারভোগীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী। তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিই সাইকেল গ্রহণ করছেন কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারী সাংবাদিক মোস্তফা মিয়া জানান, সাইকেল বিতরণসংক্রান্ত তথ্য ও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। তার দাবি, বিষয়টি যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বিতরণ কার্যক্রমে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অভিযোগের পর সাইকেল বিতরণ স্থগিত রাখা হয়ে থাকলে, সেটির কারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও স্পষ্ট করা দরকার।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী শিক্ষাবৃত্তির সম্ভাব্য বরাদ্দের বিবরণ হলো—
- প্রাথমিক পর্যায়ে: ৬৫ জনকে জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা; মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
- মাধ্যমিক পর্যায়ে: ৩৯ জনকে জনপ্রতি ৫ হাজার টাকা; মোট ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
- কলেজের একাদশ শ্রেণিতে: ২৬ জনকে জনপ্রতি ৭ হাজার টাকা; মোট ১ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
তিন পর্যায়ে শিক্ষাবৃত্তির মোট অর্থের পরিমাণ ৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এ ছাড়া ২০টি সাইকেল ও ১৩টি সেলাই মেশিন বিতরণের বিষয় রয়েছে। বরাদ্দের চূড়ান্ত তালিকা, উপকারভোগীদের যোগ্যতা এবং বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
লিটন ও জুয়েল নামের দুই ব্যক্তির সংগঠনগত পরিচয়, সংশ্লিষ্ট কমিটির বৈধতা এবং আর্থিক লেনদেন নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীর দাবি, ২০২৪ সালে সংগঠনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট নথি ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা উচিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না; নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন জরুরি।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, সাইকেল, সেলাই মেশিন ও শিক্ষাবৃত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা যাচাই করে প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সরকারি অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় হয়। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য প্রকাশ এবং সরকারি সহায়তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কেএমএএ/আপ্র/২৯.১০.২৬