কুড়িগ্রাম জেলা শহরের পৌর টাউনহলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠান শেষে স্ত্রীর সামনেই এক পৌর কর্মচারীকে ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছেন এক যুবক। এ সময় নিহতের স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও কাঁচি দিয়ে আঘাত করেন অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে শহরের কলেজ মোড় এলাকায় পৌর টাউনহলে প্রথম পর্বের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতের নাম মনছুর (৫৮)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম পৌরসভায় মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ পৌর টাউনহলের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
নিহতের স্ত্রী মল্লিকা (৪৮) দুপুরে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে টাউনহল চত্বরে যান। তিনি খাবারের বাটি স্বামীর হাতে দেওয়ার সময় সেখানে আসেন অভিযুক্ত শাহনেওয়াজ সানি (৩২)। তিনি শহরের সরদারপাড়া এলাকার জুলহাসের ছেলে।
টাউনহলে উপস্থিত জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার কর্মচারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রথম পর্বের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শেষে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা চলে যান। এ সময় শাহনেওয়াজ সানি টাউনহলে প্রবেশ করতে চাইলে মনছুর তাঁকে জানান, অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে, এখন প্রবেশ করে কাজ নেই। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে খাবারের বাটি নেওয়ার সময় শাহনেওয়াজ আকস্মিকভাবে মনছুরের বুকে সার্জিক্যাল কাঁচি দিয়ে একাধিক আঘাত করেন। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মল্লিকাকেও ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করেন তিনি। তাঁদের চিৎকার শুনে টাউনহলের ভেতরে থাকা অন্য কর্মচারীরা ছুটে এসে দুজনকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনছুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মল্লিকাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা অভিযুক্ত শাহনেওয়াজকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তাঁর কাছে আগে থেকে সার্জিক্যাল কাঁচি থাকার কারণ জানা যায়নি। তিনি কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে যান জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথসহ পুলিশ ও পৌর প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, ‘অভিযুক্ত যুবককে আটক করে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে ঘটনাটি আকস্মিক, পূর্বপরিকল্পিত নয়। ওই যুবকের কাছে কেন কাঁচি ছিল এবং কেনই বা তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটালেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’
এদিকে, পৌর কর্মচারীকে হত্যার ঘটনার পরও শনিবার সন্ধ্যায় একই পৌর টাউনহলে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান চলছিল।
সানা/আপ্র/৮/১১/২০২৬