সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের কবলে পড়েছেন ১০ জেলে। মুক্তিপণের দাবিতে তাঁদের অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজন ও ফিরে আসা জেলেরা। গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল পর্যন্ত সুন্দরবনের নোটাবেঁকী, আগুনজ্বালা, জলঢাকা, চালতেবেড়ে ও রায়মঙ্গল নদী এলাকা থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের আমির আলী এবং দাতিনাখালী গ্রামের আলম সানার নেতৃত্বাধীন দুটি বাহিনীর সদস্যরা এ অপহরণের সঙ্গে জড়িত।
অপহৃত জেলেরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের রুবেল, ইমরান ও খোরশেদ, ছোটভেটখালী গ্রামের নুরুজ্জামান, কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজী ও জহুর আলী এবং সিংহড়তলী গ্রামের সুরাত আলী। এ ছাড়া কয়রা উপজেলার মোমিন মোড়ল, দিদারুল ও ইমরান রয়েছেন অপহৃতদের তালিকায়।
ফিরে আসা জেলেরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতিটি নৌকায় তিনজন করে জেলে ছিলেন। সেখান থেকে একজন করে জেলেকে তুলে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। নুরুজ্জামান, দিদারুল ও ইমরানসহ নয়জনের মুক্তির জন্য মাথাপিছু এক লাখ টাকা করে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নৌকা নিয়ে বনের ভেতরে একা থাকা সুরাত আলীর মুক্তিপণ তুলনামূলক কম চাওয়া হলেও টাকার পরিমাণ জানা যায়নি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শাহিনুর ইসলাম জানান, জেলেদের কাছ থেকেই তাঁরা অপহরণের খবর পেয়েছেন। বন বিভাগের টহল দল সুন্দরবনের ভেতরে অভিযান চালাচ্ছে। তবে বিশাল বনাঞ্চলে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা শুধু বন বিভাগের পক্ষে কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাফিউল ইসলাম জানান, জলদস্যুদের হাতে জিম্মি হলে সাধারণত জেলেদের পরিবার গোপনে তাদের সঙ্গে সমঝোতা করে। এ কারণে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসা জেলেরা অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতে চান না।
তবে মুক্তিপণের টাকা আদায়ে ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের মালিককে শনাক্ত করে অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।
এদিকে, অপহৃত জেলেদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার এবং নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/৯/১১/২০২৬