কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষের পর সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। রোববার (৮ নভেম্বর) অধিকাংশ পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করায় ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে, গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে বেতন বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকদের বিক্ষোভে সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েক দিন ধরে অসন্তোষ চলছিল। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণার পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিক আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
দুপুর ১২টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার ও আশুলিয়ার অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকেরা শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছেন। কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করায় কর্তৃপক্ষ ২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে। তখনো চারটি কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে অবস্থান করছিলেন। একটি স্থানে কিছু শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিলে তাঁদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবিসহ পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানিয়েছে সাভার উপজেলা প্রশাসন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন বলেন, বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন। কিছু কারখানার শ্রমিক কাজ না করে ভেতরে বসে থাকায় কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজ বন্ধ রেখে সড়কেও অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে সার্বিক পরিস্থিতি আপাতত ভালো। আগামী ১০ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকেরা কাজে ফিরেছেন। তবে ১০ তারিখ পর্যন্ত বেতন পরিশোধের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। মালিকদের নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১১ প্লাটুন বিজিবি, ৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে, গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানার জরুন এলাকায় বেতন বাড়ানোর দাবিতে রোববার দুপুরে আবারও বিক্ষোভ করেন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্ধশতাধিক শ্রমিক লাঠিসোঁটা নিয়ে কাশিমপুর থেকে কোনাবাড়ীর জরুনের দিকে আসেন। এ সময় তাঁরা আশপাশের কয়েকটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছিল। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের কারখানার ভেতরে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ধাওয়া করেন। পরে বিজিবি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ ও বিজিবি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ এবং লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। বেলা ৩টার দিকে একই দাবিতে মণ্ডল গ্রুপের বেশ কয়েকজন শ্রমিক জরুন মোড়ের দিকে আসছিলেন। এ সময় আশপাশের ছয় থেকে সাতটি কারখানায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ ও বিজিবি তাঁদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় সাতটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সাতটি ছাড়া গাজীপুরের বাকি সব কারখানায় উৎপাদন চলছে।
সানা/আপ্র/৯/১১/২০২৬