ঝিনাইদহে জমির বিরোধ কেন্দ্র করে বাড়ির পাশে গাছ কাটায় বাধা দেয়ায় এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ সময় কলেজ শিক্ষককে রক্ষা করতে এগিয়ে আসায় কয়েকজন নারীকেও মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার দুপুরে ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ছোট কামারকুণ্ডু গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিক্ষক মনোয়ার হোসেন ঝিনাইদহের আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক। এ ঘটনায় তিনি রাতেই ঝিনাইদহ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে কয়েকজন ব্যক্তি একটি জমির গাছ কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে মনোয়ার হোসেন সেখানে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে ছাত্রদল নামধারী সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনসহ কয়েকজন নেতার নারীকে মারধর করার অভিযোগ এবং মারধরের একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির আঙিনায় কয়েকজন নারীকে ধরে টানাটানি ও একাধিক চড়-থাপ্পর দিচ্ছে ছাত্রদল নেতাও তার সাঙ্গপাঙ্গ। এ সময় নারীদের নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। তবে এ বিষয় অভিযুক্ত ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল সভাপতি সমিনুজ্জামান সমেনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনোয়ার হোসেন জানান, বাড়ির আঙিনায় গাছ না কেটে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানালে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা ও তার সাঙ্গপাঙ্গ তার উপর অর্তকিতভাবে হামলা চালায়। তার অভিযোগ, তার স্ত্রীসহ বাড়ির কয়েকজন নারী তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর ও লাঞ্ছিত করে সন্ত্রাসীরা।
জমির মালিক দাবি করা দাউদ হোসেন বলেন, আদালতের রায় থাকার পরও প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করছে। তবে অভিযুক্ত সমিনুজ্জামান সমেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি সামসুল আরেফিন বলেন, দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কেএমএএ/আপ্র/১৫.০৪/২০২৬