নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমপরিমাণ কর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ওপর আরোপ করা হলে সরকার বছরে ১ হাজার ৫৯ কোটি থেকে ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারতো। যেখানে জীবাশ্ব জ্বালানির ওপর মোট করের হার ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সেখানে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ বলে জানিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার (৭ জুন) রাজধানীতে সিপিডি আয়োজিত ‘ফসিল ফুয়েল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান রাজস্ব বৈষম্য: জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প সমাধান’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বর্তমানে আমদানিকৃত এলএনজিকে বাজারে তুলনামূলক সস্তা ও প্রতিযোগিতামূলক রাখতে ভ্যাট অব্যাহতি দিয়ে রেখেছে। ফলে, এলএনজির ওপর মোট করের হার মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ খাতের সরঞ্জামের ওপর মোট করের হার প্রায় ৩১ শতাংশ এবং বায়ু বিদ্যুৎ খাতে তা ২৯ শতাংশ।
গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এলএনজি আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ১ হাজার ২৯৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। একইভাবে বায়ু বিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করলে অতিরিক্ত রাজস্ব আসতো ১ হাজার ৫৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ, জীবাশ্ম জ্বালানিকে কর-সুবিধা দিতে গিয়ে সরকার বছরে সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২৯৩ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, কয়লা আমদানির ওপর সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর আরোপ করা হলে সরকারের অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হতো ৬৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা। তবে, তেল খাতে সৌরবিদ্যুতের সমপরিমাণ কর কাঠামো প্রয়োগ করলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্টো ৪ হাজার ৯৫১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা কমে যেতে পারে।
সিপিডি জানায়, দেশের টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের অন্যতম প্রধান বাধা হলো জীবাশ্ম ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক-কর বৈষম্য। একদিকে এলএনজি আমদানিতে ভ্যাট শূন্য এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে সোলার প্যানেলসহ গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপ করা হয়েছে। ফলে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ কৃত্রিমভাবে ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজস্ব ক্ষতি কমাতে সিপিডি বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- এলএনজি আমদানির ওপর বিদ্যমান শূন্য ভ্যাট সুবিধা প্রত্যাহার করে সাধারণ জ্বালানির মতো ১৫ শতাংশ ভ্যাট পুনর্বহাল করা, সোলার ও উইন্ড সরঞ্জামের ওপর থেকে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, স্মার্ট গ্রিড ও বৈদ্যুতিক যানবাহনের জন্য বিশেষ ‘সবুজ ভর্তুকি’ ও অনুদান বরাদ্দ রাখা।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি দাবি করে, বর্তমান কর ও বাজেট কাঠামো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানিকে পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কয়লা ও এলএনজির শুল্ক সুবিধা যৌক্তিকীকরণ এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যাপাসিটি পেমেন্ট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।
সানা/আপ্র/৭/৬/২০২৬