বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি পুলিশে না জানিয়ে ঘরোয়া শালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি উপজেলার ৭ নম্বর গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বোর্ডের হাট মিজু চেয়ারম্যানের পাড়া গ্রামে ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের ৬০ বছর বয়সী সাঈদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওই কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গতকাল বিকেলে গ্রামের একটি পুকুরপাড়ে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজমুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং অর্থদণ্ড ও গ্রাম ছাড়ার শর্তে মুচলেকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার দেওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তাদের দাবি, ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার আইন অনুযায়ী হওয়া উচিত।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেছেন, ধর্ষণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। এ ধরনের অভিযোগ টাকার বিনিময়ে বা গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়ে নিষ্পত্তি করা যায় না। তারা অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অবৈধ শালিসে জড়িতদের বিরুদ্ধেও তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান জাহিদ সরকারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/৪/৮/২০২৬