দেশের রাজনীতি, সমাজব্যবস্থা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নানা বিষয় নিয়ে আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হয়েছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। সোমবার (৩ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দুর্নীতি, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সামাজিক বৈষম্য এবং জনসচেতনতার অভাব নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পোস্টের শুরুতেই তিনি ছোটখাটো চুরি ও অনিয়মের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, সাধারণ অপরাধের ঘটনায় জনরোষ দেখা গেলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একই ধরনের সামাজিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।
আসিফ আকবর লেখেন, ‘লুটেরা গোষ্ঠী লুটেই যাচ্ছে দেশটাকে। রাজনীতিকে হাতিয়ার বানিয়ে দেশটাকে খোকলা করে এরাই আবার হয়ে যায় জনপ্রতিনিধি।’
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষই নানা প্রতিশ্রুতির ফাঁদে পড়ে এসব ব্যক্তিকে নেতা ও অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করার পরও শেষ পর্যন্ত একই নেতৃত্বকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার প্রবণতা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটকে দীর্ঘস্থায়ী করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে উচ্চশিক্ষিত ও প্রভাবশালী শ্রেণির সমালোচনা করে আসিফ আকবর দাবি করেন, বড় ধরনের দুর্নীতির কৌশল তারাই ভালোভাবে জানে, আর সাধারণ মানুষ নানা প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে সেই দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থাকেই বৈধতা দেয়।
তিনি ১৯৫৬ সালের ৩ আগস্ট মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সবাক বাংলা চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর ৭০ বছর পূর্তির প্রসঙ্গও টানেন। একই সঙ্গে সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে তুলনা করে নিজের মতামত তুলে ধরেন।
দেশের ফুটবল প্রশাসন নিয়েও মন্তব্য করেন এই সংগীতশিল্পী। তার মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের ধ্যানধারণার পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতারই অংশ।
স্ট্যাটাসের শেষদিকে তিনি লেখেন, ‘এই দেশের মানুষের শত্রুর প্রয়োজন নেই, নিজেদের বিনাশে নিজেরাই যথেষ্ট।’ তার মতে, দেশের তরুণরাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে, আর সেই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি।
‘ভালবাসা অবিরামৃ’ লিখে পোস্টটি শেষ করেন আসিফ আকবর।
সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত মতামত প্রকাশ করে থাকেন এই সংগীতশিল্পী। তার নানা বক্তব্য ও স্ট্যাটাস প্রায়ই আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সানা/আপ্র/৪/৮/২০২৬