গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

মেনু

মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাসে নির্দেশনা চান শিক্ষকরা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩৪ পিএম, ১০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৪ এএম ২০২৬
মিশ্র পদ্ধতিতে ক্লাসে নির্দেশনা চান শিক্ষকরা
ছবি

ফাইল ছবি

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে রাজধানীর নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ও সশরীরে উপস্থিতির সমন্বয়ে মিশ্র পদ্ধতিতে শ্রেণিকার্যক্রম চালুর সরকারি সিদ্ধান্তকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে দেখছেন শিক্ষক ও শিক্ষাবিদরা। তবে এ পদ্ধতি কার্যকর করতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে মিশ্র পদ্ধতির উদ্যোগ নেয়। এ প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানান, নির্বাচিত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এ পদ্ধতি চালু হবে।

মন্ত্রী জানান, রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে এবং শনি, সোম ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকবে। তবে কোন কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ব্যবস্থা চালু হবে, তা পরে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকেই অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষাবিদদের মতে, সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত। তাদের ভাষ্য, একযোগে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন ক্লাস চালু করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হতো। তবে পরীক্ষামূলক ফলাফল পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দেশের আর্থসামাজিক বৈষম্যের বিষয়টি বিবেচনায় এনে অনেকেই সতর্ক করছেন, শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগের ব্যবধানের কারণে এ পদ্ধতি সর্বত্র কার্যকর নাও হতে পারে। তাই জাতীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকদের একটি বড় অংশ অনলাইনে ক্লাস পরিচালনার পদ্ধতি, মূল্যায়ন এবং সময়সূচি নিয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা চেয়েছেন। বিশেষ করে আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনলাইন ক্লাস কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নির্ধারণ জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

এছাড়া মিশ্র পদ্ধতিতে সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হতে পারে—এমন আশঙ্কায় কিছু প্রতিষ্ঠানের অনীহা তৈরি হতে পারে বলেও মত দিয়েছেন শিক্ষকরা।

একই সঙ্গে অনলাইনে ক্লাসের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিভাইস নির্ভরতা ও আসক্তি বাড়ার ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে শিক্ষার্থীরা ডিভাইস ব্যবহারে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিযোজিত করার এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যদিও এর সফল বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১০/৪/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিসিএস নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে পিএসসি
১৩ এপ্রিল ২০২৬

বিসিএস নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে পিএসসি

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) দীর্ঘদিনের জট, ধীরগতি এবং নিয়োগের অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ধরনের সংস্ক...

অনলাইন ক্লাস শুরু হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
১২ এপ্রিল ২০২৬

অনলাইন ক্লাস শুরু হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাস। র...

পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী
১১ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস হয় না। নেই হাতে-কলমে শেখার মেশিনারিজ। ল্যাবের যন্ত্র...

ফিরছে অনলাইন ক্লাস, কমে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি
০৯ এপ্রিল ২০২৬

ফিরছে অনলাইন ক্লাস, কমে যাচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটি

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, তীব্র যানজট ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

মতামত জানান

‘অসম ও দেশবিরোধী’ মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। আপনি কি এই দাবির সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ২ | শেষ আপডেট: 2 দিন আগে