ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার এবং মামলার দুই আসামির জামিন বাতিলের দাবিতে আগামী ২৯ অক্টোবর আসামজুড়ে শান্তিপূর্ণ মোমবাতি মিছিলের ডাক দিয়েছে ‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন’সহ বিভিন্ন সংগঠন।
সংগঠনগুলোর দাবির মধ্যে রয়েছে জুবিন গার্গের মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত অব্যাহত রাখা, মামলার অভিযুক্ত অমৃতপ্রভা মহন্ত ও সন্দীপন গার্গের জামিন বাতিল এবং তাঁর আর্থিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা।
‘অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়নের’ সভাপতি উৎপল শর্মা জনগণকে শান্তিপূর্ণ, অহিংস ও গণতান্ত্রিক উপায়ে এ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
দ্রুত বিচার আদালতে প্রতিদিন শুনানি শুরু হওয়ার পর রাজপথে প্রতিবাদ কিছুটা কমলেও ন্যায়বিচারের দাবি অব্যাহত রয়েছে বলে জানান উৎপল শর্মা।
তিনি বলেন, জুবিন গার্গের রহস্যজনক মৃত্যু আসামের মানুষকে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে সোচ্চার করেছে। মুখ্যমন্ত্রীও এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উৎপল শর্মা বলেন, দ্রুত বিচার আদালতে প্রতিদিন শুনানি শুরু হওয়ার পর মানুষের রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানানোর প্রয়োজনীয়তা কিছুটা কমেছে। তবে জুবিন গার্গের ন্যায়বিচারের দাবিতে মানুষের মনে জ্বলতে থাকা আগুন কখনোই নেভেনি।
তিনি আরো বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় বিলম্ব এবং একের পর এক আসামির জামিনে মুক্তি জনমনে অসন্তোষ তৈরি করেছে। এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না হওয়ায় এবং অভিযুক্তরা জামিন পেতে থাকায় আসামের মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ।
উৎপল শর্মা বলেন, বিশেষ তদন্তকারী দল যে অভিযোগগুলো দায়ের করেছে, সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হলেই অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া সম্ভব। বিচারপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে এগিয়ে নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো অবহেলা না হয়, সে জন্য সরকারকে চাপ দিতে থাকবে তাঁর সংগঠন।
আসামের সরকারি আইনজীবী ও তদন্তের প্রধান অভিযুক্তদের জামিন বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন উল্লেখ করে উৎপল শর্মা দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘আসামের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রধান সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা বলেছেন। এটি নিশ্চিত করতে হবে, যেন উভয় আসামির জামিন বাতিল করা হয়।’
গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর মারা যান ভারতীয় সংগীতশিল্পী জুবিন গার্গ। তাঁর মৃত্যুর পর দুইবার ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রথমটি সিঙ্গাপুরে এবং দ্বিতীয়টি আসামে। তাঁর মৃত্যু ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তাঁকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জুবিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে আসাম সরকার বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে। পাশাপাশি, গুয়াহাটি হাইকোর্ট তদন্তের জন্য একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন করেছে। জুবিনের মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছেন তাঁর লাখো ভক্ত।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬