সরকারের অনুমতি পেলে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না - পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে পুলিশ বাহিনীকে বেআইনি চর্চা থেকে মুক্ত করা এবং জুলাই সনদে বর্ণিত পথে পুলিশ কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি বলেছে, সরকারের বেআইনি নির্দেশ পালনে পুলিশ প্রশাসন বাধ্য নয়। বাংলাদেশের দণ্ডবিধি ও পুলিশ আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান রয়েছে বলেও দাবি করেছে দলটি।
পুরান ঢাকায় সোমবার দুপুরে ‘কমিউনিটি ইসলামিক ব্যাংক সিস্টেম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, “আমাদের দায়িত্ব, আইন-সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেইটাই আমরা করব। যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাও করে, আমরা সেইটা করব।”
আইজিপির এ বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন সমালোচনা করেছে। তবে রাতে পুলিশ সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, আইন প্রয়োগে কঠোরতা বোঝাতে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন।
এনসিপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পুলিশ প্রধানের এ ধরনের বক্তব্য কেবল আইনের শাসন ও সংবিধানের পরিপন্থিই নয়; বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মত ঘৃণ্য অপরাধকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার বিপজ্জনক পাঁয়তারা।”
দলটি আরো বলেছে, “এনসিপি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, সরকারের অনুমোদন বা অনুমতি দিয়েও কখনো কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া যায় না। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি তাদের রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখার ১৪ নম্বর দফায় বলেছিল, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অবসান ঘটানো হবে। কিন্তু তাদের সরকারের আমলে নিয়োগকৃত আইজিপির এমন উচ্চারণ স্পষ্টতই তাদের নিজেদের অঙ্গীকারের সাথে দ্বিচারিতা এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে অযোগ্য লোক নিয়োগের সাক্ষাৎ নজির।”
বিগত ‘স্বৈরাচারের আমল’ থেকে শিক্ষা না নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায় থেকে এ ধরনের উসকানিমূলক ও বেআইনি বক্তব্য দেওয়াকে চরম ধৃষ্টতা বলেও মন্তব্য করেছে দলটি।
এনসিপির ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ঢাকতে ‘ক্রসফায়ার’-এর ভয় দেখানো এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দেউলিয়াত্ব। এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের বেআইনি বলপ্রয়োগে প্ররোচিত করতে পারে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন পথ উন্মুক্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
সানা/আপ্র/২৭/১০/২০২৬