তিন বছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘অর্ধাঙ্গিনী’ দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিল সম্পর্ক, ভালোবাসা আর মানসিক টানাপোড়েনের সূক্ষ্ম উপস্থাপনার জন্য। সেই গল্পেরই নতুন অধ্যায় নিয়ে এবার আসছে ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’। আর সিকুয়েলটিকে আরো নাটকীয়, আবেগঘন ও চরিত্রনির্ভর বলে বর্ণনা করলেন ‘মেঘনা’ চরিত্রে অভিনয় করা জয়া আহসান।
কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে চলতি মাসে। সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রেইলারেই উঠে এসেছে জয়া আহসান, চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় ও কৌশিক সেন অভিনীত চরিত্রগুলোর সম্পর্কের নতুন টানাপোড়েন এবং জীবনের কঠিন বাস্তবতা।
কলকাতার সংবাদমাধ্যম *সংবাদ প্রতিদিন*কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া বলেন, এবারের ছবিতে নাটকীয়তার মাত্রা আগের চেয়ে বেশি হলেও সেটি কখনোই কৃত্রিম মনে হবে না।
তার ভাষায়, “নাটকীয় জায়গাগুলো এবার আরো বেশি। তবে পরিচালক সেগুলো জোর করে চাপিয়ে দেননি। আমি তো একজন দর্শকও। সেই জায়গা থেকে মনে হয়েছে, দর্শকদেরও ভালো লাগবে। নতুন কয়েকটি চরিত্র যুক্ত হয়েছে। আগের চরিত্রগুলোর জীবনও এই সময়ের মধ্যে এগিয়েছে, ফলে তাদের জীবনে নতুন মানুষ এসেছে।”
প্রথম পর্বের ‘মেঘনা’ চরিত্রটিকে তিন বছর পর আবার পর্দায় ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন জয়া। তিনি বলেন, কোনো চরিত্র শেষ হয়ে গেলেও তার কিছু অংশ অভিনেতার ভেতরে থেকে যায়।
“একটি বই পড়ার পর যেমন তার চরিত্র বা দর্শনের কিছুটা আমাদের মধ্যে থেকে যায়, তেমনি ‘মেঘনা’রও কিছু অংশ আমার ভেতরে রয়ে গিয়েছিল। নতুন ছবির কাজ শুরু করার সময় সেই অনুভূতিগুলো আবার জাগিয়ে তুলেছি।”
নতুন কাহিনিতে দেখা যাবে, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মেঘনার মনে ক্রমেই গাঢ় হয় এই বিশ্বাস যে, পরিবারের সবাই মুখে না বললেও স্বামী সুমন এখনও প্রথম স্ত্রী শুভ্রার সঙ্গে তার তুলনা করেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় সংসার করেও অতীতের স্মৃতি ও অপরাধবোধ থেকে মুক্ত হতে পারেন না সুমন। একপর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে শুভ্রার দ্বারস্থ হলেও কাঙ্ক্ষিত সমর্থন পান না মেঘনা।
জয়ার মতে, এবার শুধু মেঘনা, শুভ্রা ও সুমনের সম্পর্ক নয়, অম্বরীশ ভট্টাচার্যের চরিত্রও গল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ফলে চরিত্রগুলোর দ্বন্দ্ব, সংকট ও আবেগ আগের তুলনায় আরো গভীরভাবে ফুটে উঠবে।
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে কাজ করলেও নিজেকে কখনোই টালিউডের বাইরের মানুষ বলে মনে হয়নি বলে জানান দুই বাংলার জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী।
জয়া বলেন, “এটা ঠিক, আমি অন্য একটি দেশের পাসপোর্ট বহন করি। কিন্তু এতদিন ধরে এখানে কাজ করছি যে, কোনোভাবেই মনে হয় না আমি এই ইন্ডাস্ট্রির বাইরের কেউ। আমি যদি এখানকার বাসিন্দাও হতাম, সম্ভবত একই পরিমাণ কাজই করতাম। এখানকার দর্শক, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এবং পরিচালকদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা পেয়েছি, সেটাই আমাকে আপন করে নিয়েছে।”
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের বর্তমান অবস্থা নিয়েও কথা বলেন জয়া। তার মতে, দেশের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাজও নিয়মিত গতিতেই এগিয়ে চলছে।
সানা/আপ্র/৩০/৬/২০২৬