দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৭৩৩ জন, যা চলতি বছরের এক দিনে হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ৫৯ জন, যা চলতি বছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত আটজনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগের তিনজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের একজন রয়েছেন।
একই সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৮ জন।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ৩০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশালে ১৯১ জন, চট্টগ্রামে ১৯১ জন, রাজশাহীতে ১৪৫ জন, ময়মনসিংহে ১১০ জন, রংপুরে ৮৬ জন এবং সিলেটে সাতজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক হাজার ২৮২ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৬১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এক দিনের ব্যবধানে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা দুটোই বেড়েছে।
সেপ্টেম্বরেই মৃত্যু ৫৯: চলতি বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর প্রকোপ তুলনামূলক কম থাকলেও বর্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহেই মৃত্যু বেড়ে ৫৯ জনে পৌঁছেছে। গত মাস আগস্টে এক মাসে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৪ দিনেই আগস্টের পুরো মাসের তুলনায় আরো বেশি মানুষ মারা গেছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জসহ ১৫ জেলায় আগামী সপ্তাহে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলায় নিবিড় নজরদারির সুপারিশ করা হয়েছে।
২০২৩ সালে সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্ত: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা যায়। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন ১ হাজার ৭০৫ জন।
গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে দেশে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
চলতি বছরের এখন পর্যন্ত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কম হলেও সেপ্টেম্বরের দ্রুত ঊর্ধ্বগতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এক দিনে ১ হাজার ৭৩৩ জনের হাসপাতালে ভর্তি এবং আটজনের মৃত্যু পরিস্থিতি মোকাবিলায় মশা নিয়ন্ত্রণ, রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা প্রস্তুতি ও নগর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত তৎপরতার প্রয়োজনীয়তাই সামনে এনেছে।
সানা/আপ্র/১৪/৯/২০২৬