গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

তথ্যভান্ডারের সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব ও দেরিতে চিকিৎসা নেওয়ায় বাড়ছে ঝুঁকি

স্তন ক্যানসারে বছরে হাজারো মৃত্যু, শনাক্তে জাতীয় ঘাটতি

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১২:২৯ পিএম, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৩১ এএম ২০২৬
স্তন ক্যানসারে বছরে হাজারো মৃত্যু, শনাক্তে জাতীয় ঘাটতি
ছবি

প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশে নারীদের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ স্তন ক্যানসার। অথচ রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা, দ্রুত নিশ্চিত রোগনির্ণয় এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার হিসাবে প্রতিবছর দেশে হাজারো নারী নতুন করে এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন কয়েক হাজার। কিন্তু প্রকৃত রোগীর সংখ্যা কত, কোন বয়সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি এবং চিকিৎসা শুরুর আগে কতটা সময় নষ্ট হচ্ছে-এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেওয়ার মতো জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার তথ্যভান্ডার এখনো নেই।

আজ স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে পাওয়া তথ্য, আন্তর্জাতিক গবেষণা, স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থার নির্দেশনা এবং বাংলাদেশে পরিচালিত গবেষণা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, রোগটির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শুধু প্রচার-প্রচারণা নয়; প্রয়োজন নিয়মিত পরীক্ষা, দ্রুত রোগনির্ণয়, চিকিৎসাসেবার সহজলভ্যতা এবং জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা।

রোগীর সংখ্যা নিয়ে হিসাবেই বড় প্রশ্ন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসারবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার বৈশ্বিক ক্যানসার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ওই বছর ১২ হাজার ৯৮৯ জনের স্তন ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার প্রাক্কলন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সংস্থাটির ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, নতুন রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৮০ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ৪ হাজার ২১১।

আবার স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইএআরসির হিসাব উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার ৭৬৪ নারী স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং ৬ হাজার ৮৪৪ জন মারা যান। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হিসাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

এই পার্থক্যকে রোগীর সংখ্যা বাস্তবে কমে যাওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আইএআরসির ২০২৪ সালের বাংলাদেশ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে নতুন রোগীর হিসাব তৈরিতে প্রতিবেশী দেশের তথ্য থেকে প্রাক্কলন এবং মৃত্যুর হিসাব তৈরিতে মডেলভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব সংখ্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি রোগীকে শনাক্ত করে তৈরি করা পূর্ণাঙ্গ গণনা নয়।

বাংলাদেশে জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনব্যবস্থা না থাকায় রোগের প্রকৃত বিস্তার, অঞ্চলভিত্তিক প্রবণতা এবং চিকিৎসার ফলাফল নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন। জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল হাসপাতালভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধন নিয়ে কাজ করছে। তবে হাসপাতালের তথ্য দিয়ে দেশের সব রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায় না।

এখানেই নীতিনির্ধারণের বড় ঘাটতি। কত নারী আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের কতজন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হচ্ছেন এবং কতজন চিকিৎসা শেষ করতে পারছেন - নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্য ছাড়া এসব প্রশ্নের ভিত্তিতে কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করা কঠিন।

লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই পরীক্ষার গুরুত্ব
স্তন ক্যানসার সাধারণত স্তনের দুধবাহী নালি বা দুধ উৎপাদনকারী গ্রন্থির কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন থেকে শুরু হয়। এসব কোষ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকলে টিউমার তৈরি হতে পারে। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে ক্যানসার আশপাশের লসিকাগ্রন্থি এবং শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

রোগটির একটি বড় সমস্যা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো ব্যথা থাকে না। ফলে স্তনে গাঁট বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলেও অনেকে গুরুত্ব দেন না। আবার কোনো লক্ষণ নেই বলে পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই - এমন ধারণাও ঝুঁকি বাড়ায়।

স্তনে নতুন গাঁট বা শক্ত অংশ, স্তনের আকার কিংবা আকৃতিতে পরিবর্তন, ত্বকে টান বা গর্তের মতো দাগ, লালচে ভাব, বোঁটার আকৃতির পরিবর্তন, বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক তরল বা রক্ত বের হওয়া এবং বগলের কাছে গাঁট দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। স্তনে গাঁট হলেই ক্যানসার, এমন নয়। তবে ব্যথা না থাকলেও অস্বাভাবিক গাঁট পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসা শুরু করতে পারলে মৃত্যুঝুঁকি কমানো যায়। লক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা, অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো - এই তিনটি বিষয় তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ ও ঝুঁকি: সবার জন্য একই নিয়ম নয়
স্তন ক্যানসারের একক কোনো কারণ নেই। বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। নারী হওয়া এ রোগের সবচেয়ে বড় ঝুঁকির উপাদান; তবে পুরুষেরও স্তন ক্যানসার হতে পারে। পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস, কিছু বংশগত জিনগত পরিবর্তন, স্থূলতা, তামাক ব্যবহার, বিকিরণের সংস্পর্শ এবং কিছু প্রজনন ও হরমোন-সম্পর্কিত বিষয় ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।

তবে ঝুঁকির উপাদান থাকা মানেই কারও ক্যানসার হবে, এমন নয়। আবার পরিবারে কারও এ রোগ না থাকলেও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রে লিঙ্গ ও বয়স ছাড়া পরিবর্তনযোগ্য নির্দিষ্ট ঝুঁকির উপাদান পাওয়া যায় না।

এ কারণে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত নারীদের নয়, সব নারীর মধ্যেই স্তনের স্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলা দরকার। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং তামাক এড়িয়ে চলা সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়ক। তবে এসব অভ্যাসের কোনোটি স্তন ক্যানসার না হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না।

সচেতনতা আছে, নিয়মিত পরীক্ষা কম
বাংলাদেশে সচেতনতা ও পরীক্ষা করানোর বাস্তব চিত্র নিয়ে ২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় চট্টগ্রামের শহর ও গ্রামের ৮৬৯ নারীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, মাত্র ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ নারী স্তন নিজে পরীক্ষা করার বিষয়ে জানতেন। মাত্র ২৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নারী কখনো নিজে স্তন পরীক্ষা করেছেন এবং ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করিয়েছেন।

শহর ও গ্রামের ব্যবধানও ছিল উল্লেখযোগ্য। শহরের ৪০ দশমিক ১৫ শতাংশ নারী নিজে স্তন পরীক্ষা করার কথা জানান; গ্রামে এ হার ১৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর হার শহরে ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ, গ্রামে মাত্র ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ।

গবেষণায় পরীক্ষা না করানোর বড় বাধা হিসেবে উঠে এসেছে, কোনো লক্ষণ নেই বলে পরীক্ষা প্রয়োজন মনে না করা এবং নিজের ঝুঁকি নেই বলে ধারণা করা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাবও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এ গবেষণাটি পুরো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী জাতীয় জরিপ নয়; এটি চট্টগ্রামের নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত। তবু এর ফলাফল শহর-গ্রাম বৈষম্য এবং সচেতনতার ঘাটতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়।

নিজে স্তন পরীক্ষা করে অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করার অভ্যাস সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি চিকিৎসকের পরীক্ষা বা প্রয়োজনীয় রোগনির্ণয় পরীক্ষার বিকল্প নয়। একইভাবে, কেবল লক্ষণ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করাও যথেষ্ট নয়। বয়স, ব্যক্তিগত ঝুঁকি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।

নীতিমালা আছে, বাস্তবায়নে ঘাটতি
আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থার স্তন ক্যানসার স্ক্রিনিং-সংক্রান্ত ২০২৫ সালের বাংলাদেশ তথ্যপত্রে দেখা যায়, দেশে এ বিষয়ে কর্মসূচি, সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান, বাজেট এবং পরীক্ষার নির্দেশনা রয়েছে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত নির্দেশনায় ৩০ থেকে ৯৯ বছর বয়সীদের বছরে একবার চিকিৎসকের মাধ্যমে স্তন পরীক্ষা করার কথা উল্লেখ আছে। তবে ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার আওতায় আসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

অর্থাৎ, কর্মসূচি বা নির্দেশনা থাকার পাশাপাশি কত মানুষ বাস্তবে সেবা পাচ্ছেন, সেটিও বড় প্রশ্ন। একই তথ্যপত্রে স্তন পরীক্ষার কিছু সেবা বিনা মূল্যে দেওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তী রোগনির্ণয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা বিনা মূল্যে নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে প্রাথমিক পরীক্ষার পর কারও সন্দেহজনক লক্ষণ পাওয়া গেলে তাঁর পক্ষে পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসার খরচ বহন করা কঠিন হতে পারে।

স্তন ক্যানসার শনাক্তের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসকের শারীরিক পরীক্ষা, বয়স ও উপসর্গ অনুযায়ী আলট্রাসনোগ্রাম বা ম্যামোগ্রাফি এবং প্রয়োজন হলে টিস্যুর নমুনা পরীক্ষা করে রোগ নিশ্চিত করা হয়। ম্যামোগ্রাফি হলো লক্ষণ প্রকাশের আগেই নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগ শনাক্তের একটি পদ্ধতি। কোন বয়সে এবং কত বিরতিতে এটি করা উচিত, তা ব্যক্তির ঝুঁকি ও দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা বিবেচনায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি গড়তে তাই শুধু যন্ত্রপাতি কেনা যথেষ্ট নয়। প্রশিক্ষিত জনবল, পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহজনক ফলের পর দ্রুত নিশ্চিত রোগনির্ণয়, চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা এবং রোগীর পরবর্তী চিকিৎসার খোঁজ রাখার পদ্ধতি নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসা আছে, কিন্তু সময় নষ্ট হলে ঝুঁকি বাড়ে
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়, ক্যানসারের ধরন এবং পরীক্ষায় পাওয়া জৈবিক বৈশিষ্ট্যের ওপর। অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, হরমোনভিত্তিক চিকিৎসা এবং লক্ষ্যভিত্তিক ওষুধ প্রয়োজন অনুযায়ী এককভাবে বা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হয়। সব রোগীর একই চিকিৎসা লাগে না।

প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে চিকিৎসার সাফল্যের সম্ভাবনা সাধারণত বেশি থাকে। রোগের বিস্তার অনুযায়ী কোনো ক্ষেত্রে শুধু টিউমার অপসারণ করা সম্ভব, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরো স্তন অপসারণের প্রয়োজন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে অন্য চিকিৎসাও লাগতে পারে। ক্যানসারের ধরন নির্ধারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল চিকিৎসা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসা শুরু করার পর মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া বা দীর্ঘ বিরতি দেওয়াও ফলাফল খারাপ করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা, অস্ত্রোপচার, ওষুধ, রেডিওথেরাপি, যাতায়াত এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চাপ। রোগী ও পরিবারের মানসিক সহায়তা এবং চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাও তাই জরুরি।

প্রচার নয়, সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ
স্তন ক্যানসার মোকাবিলায় কয়েকটি পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, জনসংখ্যাভিত্তিক ক্যানসার নিবন্ধনব্যবস্থা গড়ে তুলে আক্রান্ত ও মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বয়স ও ঝুঁকিভিত্তিক পরীক্ষা এবং প্রাথমিক রোগনির্ণয়ের বাস্তবসম্মত জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।

চতুর্থত, সন্দেহজনক ফল পাওয়া রোগীর পরবর্তী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারি সহায়তা এবং সাশ্রয়ী সেবার পরিধি বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, স্কুল-কলেজ, কর্মস্থল, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারী, স্বল্পশিক্ষিত জনগোষ্ঠী এবং চিকিৎসাসেবা থেকে দূরে থাকা মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানো জরুরি।

স্তন ক্যানসার সচেতনতা দিবসের গোলাপি শোভাযাত্রা ও প্রচার কার্যক্রম মানুষকে সচেতন করার সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু এক দিনের কর্মসূচি দিয়ে দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়। সচেতনতার বার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেওয়া নারী দ্রুত পরীক্ষা করাতে পারবেন, নিশ্চিত রোগনির্ণয় পাবেন এবং আর্থিক কারণে চিকিৎসা থেকে ছিটকে পড়বেন না।

স্তন ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মূল কথা তাই স্পষ্ট-রোগ লুকিয়ে রাখা নয়, ভয় পেয়ে পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া নয়, আবার অসম্পূর্ণ তথ্যের ওপর নির্ভর করাও নয়। নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান, দ্রুত রোগনির্ণয়, সাশ্রয়ী চিকিৎসা এবং ধারাবাহিক জনসচেতনতা-এই চার ভিত্তির ওপরই গড়ে তুলতে হবে কার্যকর প্রতিরোধ ও চিকিৎসাব্যবস্থা।
সানা/আপ্র/১০/১০/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চিকিৎসকের নিরাপত্তা বনাম রোগীর অধিকার নয়
০৯ অক্টোবর ২০২৬

চিকিৎসকের নিরাপত্তা বনাম রোগীর অধিকার নয়

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

নিয়মিত চা পানে কমে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মৃত্যুঝুকি
০৮ অক্টোবর ২০২৬

নিয়মিত চা পানে কমে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও মৃত্যুঝুকি

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

‘অন্ধ হতে পারেন দেশের ১০ লাখ মানুষ’, বিশেষজ্ঞরা বলছেন
০৮ অক্টোবর ২০২৬

‘অন্ধ হতে পারেন দেশের ১০ লাখ মানুষ’, বিশেষজ্ঞরা বলছেন

দেশে অন্ধত্বের প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী ছানি। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ছানি অস্ত্রোপচারের অপেক্...

নিউমোনিক প্লেগ কী, কতটা ভয়ংকর এই রোগ
০৮ অক্টোবর ২০২৬

নিউমোনিক প্লেগ কী, কতটা ভয়ংকর এই রোগ

প্লেগ ও এ ধরনের বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজ করা রাশিয়ার একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ২৮ বছর বয়সী এক গবেষক ন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

অটোরিকশার দাবির পক্ষে বলা নেতার আছে ৭০০ বাহন

অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সাত শ অটোরিকশা থাকার অভিযোগকে কাল্পনিক, অসত্য ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে এর পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চেয়েছে দলটি| প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন প্রশাসক সত্য বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 12 ঘন্টা আগে