দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যপূর্ণ সমাজে এক দরিদ্র পরিবারের মেয়ে হিসেবে বেড়ে ওঠা। আইনজীবী হয়ে নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া। এরপর আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যা ও যুদ্ধকালীন যৌন সহিংসতার বিচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন। দীর্ঘ এই পথ পেরিয়ে ২০২৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই।
৮৫ বছর বয়সী এই দক্ষিণ আফ্রিকান আইনজ্ঞের জীবন কেবল একজন বিচারকের সাফল্যের গল্প নয়; এটি আইনের চোখে মানুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ভয়াবহ অপরাধের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াই। শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৯ অক্টোবর নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি তাঁকে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
বর্ণবৈষম্যের সমাজে শৈশব, আইনকে হাতিয়ার
নাভি পিল্লাইয়ের জন্ম ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। তাঁর পরিবার ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত। জন্মের সময় দেশটিতে বর্ণবৈষম্যভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত ছিল। জাতিগত পরিচয়ের কারণে মানুষের শিক্ষা, পেশা, চলাচল ও সামাজিক সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ত। এমন বাস্তবতায় বেড়ে ওঠা পিল্লাই খুব কাছ থেকে বৈষম্য ও বঞ্চনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
তাঁর বাবা ছিলেন দরিদ্র পরিবারের একজন বাসচালক। সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও পিল্লাই আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তাঁর সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আইন শুধু আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার নিয়ম নয়; অন্যায় ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং অধিকারবঞ্চিত মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথও হতে পারে।
১৯৬৭ সালে তিনি নাটাল প্রদেশে নিজের আইনজীবী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ওই প্রদেশে আইনজীবী হিসেবে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রথম নারী ছিলেন তিনি। বর্ণবৈষম্যের সময় কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে গিয়ে তাঁকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়। বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মী ও রাজনৈতিক বন্দীদের আইনি সহায়তা দেন তিনি। তাঁর স্বামীও বর্ণবৈষম্যবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী ব্যবস্থায় রাজনৈতিক বন্দীদের আইনজীবীর সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও পিল্লাই ভূমিকা রাখেন। নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই তাঁর কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
হার্ভার্ডে উচ্চশিক্ষা, দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ইতিহাস
আইন পেশায় কাজ করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ ধরে রাখেন পিল্লাই। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড আইন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে ১৯৮২ সালে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৯৮৮ সালে আইনবিষয়ক উচ্চতর গবেষণার ডিগ্রি অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার বিষয়ে তাঁর জ্ঞান পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।
১৯৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার উচ্চ আদালতের বিচারক নিযুক্ত হন তিনি। বর্ণবৈষম্য-পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি দেশটির উচ্চ আদালতে নিয়োগ পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ নারী বিচারক হিসেবে ইতিহাস গড়েন। আইনজীবী হিসেবে যে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়েছেন, বিচারকের আসনে বসে সেই ব্যবস্থার অবসানের পর আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নেন।
তবে তাঁর কাজ দেশের আদালতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। একই বছর তিনি রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচারের জন্য প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হন। পরবর্তী সময়ে এই ট্রাইব্যুনালের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। রুয়ান্ডার ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের বিচার আন্তর্জাতিক আইনে নতুন নজির প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করে।
ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত করার ঐতিহাসিক নজির
নাভি পিল্লাইয়ের আন্তর্জাতিক খ্যাতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি রুয়ান্ডার গণহত্যার বিচার। ১৯৯৪ সালে রুয়ান্ডায় সংঘটিত গণহত্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ নিহত হন। হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন এবং নারী ও মেয়েদের ওপর পরিকল্পিত সহিংসতাও ব্যাপকভাবে সংঘটিত হয়। এসব অপরাধকে বিচারের আওতায় আনা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।
রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক হিসেবে পিল্লাই যে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, তা ইতিহাসে পরিচিত ‘আকায়েসু মামলা’ নামে। মামলাটিতে তাবা শহরের সাবেক মেয়র জ্যঁ-পল আকায়েসুর বিরুদ্ধে গণহত্যায় উসকানি ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে গণহত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আন্তর্জাতিক আদালতে গণহত্যার অপরাধে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি ছিল প্রথম ঐতিহাসিক রায়।
এই মামলার রায়ে আদালত স্বীকার করে, কোনো জাতিগত বা সুরক্ষিত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা গণহত্যার অপরাধের অংশ হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ড মানবতাবিরোধী অপরাধও হতে পারে। রায়ের যুক্তি নির্মাণে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তবে এটি ছিল তিন বিচারকের স্বাক্ষরিত সম্মিলিত রায়, একক কোনো বিচারকের সিদ্ধান্ত নয়।
এই নজির যুদ্ধের সময় নারীদের ওপর সংঘটিত যৌন সহিংসতাকে নিছক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা উপেক্ষণীয় ঘটনা হিসেবে দেখার প্রবণতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ধর্ষণ ব্যবহার করা হলে এবং তা নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকলে, সেটি গণহত্যার অপরাধের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে-এই আইনি ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায়ও তাৎপর্য বহন করে।
পিল্লাইয়ের কাজের গুরুত্ব এখানেই যে, বিচারপ্রক্রিয়ায় যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। এমন অপরাধের বিচার শুধু অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয়; ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতাকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধের ভিত্তি গড়ে তোলাও এর অংশ।
আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ও জাতিসংঘে দায়িত্ব
রুয়ান্ডার ট্রাইব্যুনালে প্রায় আট বছর দায়িত্ব পালন করার পর ২০০৩ সালে পিল্লাই আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের বিচারক নির্বাচিত হন। নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত এই আদালত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে ব্যক্তির দায় নির্ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠিত। সেখানে তাঁর দায়িত্ব পালন আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার ও আইনের বিকাশে তাঁর অভিজ্ঞতাকে আরো বিস্তৃত করে। তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত আদালতটির বিচারক ছিলেন।
২০০৮ সালে পিল্লাই জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পদে থেকে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবাধিকার পরিস্থিতি, বৈষম্য, নির্যাতন এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়ে কাজ করেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তুলে ধরা, রাষ্ট্রগুলোকে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার পালনে উৎসাহিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অধিকার রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা জোরদার করা।
জাতিসংঘের এই দায়িত্ব তাঁকে দেখিয়েছে, মানবাধিকার রক্ষায় শুধু আইন প্রণয়ন বা আদালতের রায় যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের অজুহাতে গুরুতর অপরাধ উপেক্ষা করা যায় কি না, সেই বিতর্কও আন্তর্জাতিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ফিলিস্তিন ও মিয়ানমার প্রসঙ্গেও আন্তর্জাতিক বিচার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের আলোচনায় পিল্লাই সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। কমিশনটি সেখানে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের বিষয়ে তদন্ত ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ করে। কমিশনের পর্যবেক্ষণ ও অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য রয়েছে; আন্তর্জাতিক তদন্তের ফলাফল ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের মামলাতেও পিল্লাই বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ মামলার মূল প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের কর্মকাণ্ড গণহত্যা সনদের আওতায় পড়ে কি না এবং রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক দায় আছে কি না। এ ধরনের মামলায় আদালতের কাজ অভিযোগ, প্রমাণ ও প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষণ করে বিচারিক সিদ্ধান্ত দেওয়া। অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে আদালতের প্রতিষ্ঠিত চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।
নোবেল পুরস্কারের তাৎপর্য: শান্তির জন্য ন্যায়বিচার
নাভি পিল্লাইকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণায় নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছে। কমিটির বক্তব্য, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
বিশ্বজুড়ে সংঘাত, যুদ্ধ ও রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নানা চাপের মুখে রয়েছে। শক্তিশালী রাষ্ট্র বা প্রভাবশালী নেতাদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রশ্নে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিয়ে বিরোধ দেখা যায়। এমন বাস্তবতায় পিল্লাইয়ের কর্মজীবন মনে করিয়ে দেয়, আইনের শাসন কেবল দুর্বল বা পরাজিত পক্ষের জন্য নয়; তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই ন্যায়বিচারের মৌলিক শর্ত।
তাঁর জীবনগাথার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লড়াই আদালতের রায়েই শেষ হয় না। বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান, অপরাধের শিকার মানুষের কথা শোনা, নিরপেক্ষ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ-সবই সেই লড়াইয়ের অংশ। দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবৈষম্যপূর্ণ সমাজে আইনজীবী হিসেবে যাত্রা শুরু করা পিল্লাই আন্তর্জাতিক আদালত ও জাতিসংঘের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সেই ধারণাকেই সামনে এনেছেন।
২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে একটি বার্তাও তুলে ধরে: যুদ্ধ থামানোই শান্তির একমাত্র শর্ত নয়; সংঘাতে সংঘটিত অপরাধের বিচার, ভুক্তভোগীদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ক্ষমতাবানদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা ছাড়া স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন। নাভি পিল্লাইয়ের জীবন ও কাজ সেই ন্যায়বিচারভিত্তিক শান্তির ধারণাকেই নতুন করে সামনে এনেছে।
সূত্র: নরওয়েজীয় নোবেল কমিটি, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ও হার্ভার্ড আইন বিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য।
সানা/আপ্র/১০/১০/২০২৬