গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

যে কারণে আমড়া খাবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক

স্বাস্থ্য ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০২ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৮:০৫ এএম ২০২৬
যে কারণে আমড়া খাবেন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

টক-মিষ্টি স্বাদের আমড়া অনেকেরই প্রিয় ফল। লবণ-মরিচ দিয়ে কাঁচা আমড়া খাওয়া হোক কিংবা আচার, সালাদ বা জুস—বিভিন্নভাবে খাওয়া যায় এই ফল। স্বাদের পাশাপাশি আমড়ায় রয়েছে খাদ্য-আঁশ, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। 

পুষ্টিগুণের কারণে মৌসুমি এই ফলটি পরিমিত পরিমাণে রাখা যেতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। তবে আমড়া খেলেই সব রোগ প্রতিরোধ বা নিরাময় হবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
আমড়ায় থাকা খাদ্য-আঁশ দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমাতে এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু আমড়া খেয়ে ওজন কমানো সম্ভব নয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত খাবার গ্রহণ ও নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি।


আয়রন শোষণে সাহায্য করে
শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি উদ্ভিজ্জ খাবার থেকে আয়রন শোষণে সহায়তা করে। তাই ডাল, শাকসবজি বা আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারের সঙ্গে আমড়া খাওয়া উপকারী হতে পারে। তবে রক্তশূন্যতা প্রতিরোধ বা চিকিৎসার জন্য শুধু আমড়ার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।


হৃদ্যন্ত্রের সুস্থতায় ভূমিকা
আমড়ায় পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে পটাশিয়াম স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।


ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে যেভাবে খাবেন
কাঁচা আমড়ায় তুলনামূলক কম চিনি থাকলেও ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য একে নিঃশর্তভাবে নিরাপদ বলা যায় না। কতটা খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, তা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, চিনি বা মসলা দিয়ে তৈরি আমড়া ও আচার এড়িয়ে চলা ভালো। ডায়াবেটিস থাকলে ফলের পরিমাণ ও খাদ্যতালিকা সম্পর্কে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।


ত্বকের স্বাভাবিক গঠন বজায় রাখতে সহায়ক
আমড়ায় থাকা ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। কোলাজেন ত্বকের গঠন ও স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমড়া খেলেই ত্বকের ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধ কিংবা নিরাময় হবে, এমন নিশ্চিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।


যকৃতের সুরক্ষায় কতটা কার্যকর
যকৃত শরীরের বিপাকক্রিয়া ও বিভিন্ন পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। আমড়ার কিছু উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার আগ্রহ রয়েছে। তবে আমড়া খেলে অ্যালকোহল বা রাসায়নিকের ক্ষতি থেকে যকৃত সুরক্ষিত থাকবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত মানবভিত্তিক প্রমাণ নেই। যকৃত সুস্থ রাখতে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


হজমে সহায়তা করতে পারে
আমড়ার খাদ্য-আঁশ হজমপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে আমড়া খেলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। তবে কাশি, সর্দি বা শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা হিসেবে আমড়া ব্যবহারের যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। শ্বাসকষ্ট হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


যেভাবে খেতে পারেন আমড়া

 


আমড়া বিভিন্নভাবে খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। যেমন—


কাঁচা: ভালোভাবে ধুয়ে ছোট টুকরা করে খেতে পারেন। অতিরিক্ত লবণ না দেওয়াই ভালো।


জুস: আমড়ার জুস তৈরি করা যায়। তবে বাড়তি চিনি মেশানো এড়িয়ে চলুন।


সালাদ: অন্যান্য ফল ও সবজির সঙ্গে কুচি করা আমড়া মিশিয়ে খেতে পারেন।


আচার: আমড়ার আচার জনপ্রিয় হলেও এতে অতিরিক্ত লবণ ও চিনি ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


রান্না: বিভিন্ন সবজি বা তরকারির সঙ্গে আমড়া ব্যবহার করা যায়।


আমড়া শক্ত হওয়ায় দাঁতের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিরা ছোট টুকরা করে বা থেঁতলে খেতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও চিবিয়ে খাওয়ার সক্ষমতা অনুযায়ী ফলটি ছোট করে কেটে বা নরম করে দিতে হবে, যাতে গলায় আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।


পরিমিত খাওয়াই ভালো
পুষ্টিগুণের কারণে আমড়া সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে কোনো একটি ফলই সব রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প নয়। তাই আমড়া পরিমিত খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখা জরুরি।

ডিসি/আপ্র/২০/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ? অজান্তেই বাড়ছে শরীরের সমস্যা
২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ? অজান্তেই বাড়ছে শরীরের সমস্যা

বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে নেওয়া প্রতিদিনের অভ্যাস। অফিসের ল্যাপটপের ব্যাগ হোক কিংবা ব...

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম? জেনে নিন কখন বন্ধ করা উচিত
২০ অক্টোবর ২০২৬

গর্ভাবস্থায় ব্যায়াম? জেনে নিন কখন বন্ধ করা উচিত

ব্যায়াম গর্ভাবস্থার একটি কার্যকরী অংশ হতে পারে, যদি গর্ভাবস্থা জটিলতামুক্ত থাকে এবং সেটি হবু মায়ের জ...

ভিটামিন ডি নিয়ে ছয় ভুল ধারণা, জেনে নিন সঠিক তথ্য
২০ অক্টোবর ২০২৬

ভিটামিন ডি নিয়ে ছয় ভুল ধারণা, জেনে নিন সঠিক তথ্য

হাড় ও দাঁত মজবুত রাখা, পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা এবং শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভ...

শিশুর ঠাণ্ডা-জ্বরে সঠিক যত্ন ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি
১৯ অক্টোবর ২০২৬

শিশুর ঠাণ্ডা-জ্বরে সঠিক যত্ন ও সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের ঠাণ্ডা, সর্দি ও জ্বর হওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এগুলো ভা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে