দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুক্রবার পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৫১ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৫ জন। বাকি ১ হাজার ১৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শুক্রবারের (৩০ অক্টোবর) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া দুজনের একজন খুলনা বিভাগে এবং অন্যজন সিলেট বিভাগে মারা গেছেন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৫১১ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ ছাড়া সিলেট বিভাগে ২০২ জন, চট্টগ্রামে ১১০ জন, রাজশাহীতে ৯৩ জন, ময়মনসিংহে ৮৯ জন, বরিশালে ৬৮ জন, খুলনায় ৫৬ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৭ জন মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৩১৬ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় ৭৫ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
এ সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩৫৬ জন, চট্টগ্রামে ২৫৯ জন, সিলেটে ১৩৬ জন, বরিশালে ১৩০ জন, খুলনায় ১১৪ জন, ময়মনসিংহে ১০৪ জন, রাজশাহীতে ৪৪ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৮ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ২ লাখ ২ হাজার ৬৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৯৯ জন।
তবে দেশে হাম আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, হাসপাতালে আসা সব রোগীর কিংবা হাসপাতালের বাইরে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবার হাম পরীক্ষা করা হয় না। ফলে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দিয়ে দেশে প্রকৃত সংক্রমণের চিত্র পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত রোগী এবং মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করছে। তবে এ পরিসংখ্যানে মূলত হাসপাতালে আসা ও ভর্তি হওয়া রোগীদের তথ্যই অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
সানা/আপ্র/৩০/১০/২০২৬