পৃথিবী থেকে চাঁদের পথে অর্ধেক দূরত্ব অতিক্রম করেছে আর্টেমিস টু মিশনের মহাকাশযান ওরিয়ন। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছে মহাকাশযানের ক্রুরা উচ্চ রেজ্যুলেশনের একাধিক দৃষ্টিনন্দন ছবি ধারণ করেছেন, যা প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান চূড়ান্ত ইঞ্জিন বার্ন সম্পন্ন হওয়ার পর এসব ছবি তোলেন। এই বার্নের মাধ্যমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ত্যাগ করে চাঁদের উদ্দেশে নির্ধারিত গতিপথে প্রবেশ করে।
বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে নাসার অনলাইন ড্যাশবোর্ডে দেখা যায়, ওরিয়ন তখন পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। একই সময়ে চাঁদ থেকে এর দূরত্ব ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম।
প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে পৃথিবীর বিশাল নীল অংশ হিসেবে আটলান্টিক মহাসাগর স্পষ্ট দেখা গেছে। পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করায় বায়ুমণ্ডলের চারপাশে আলোর ঝলকও দৃশ্যমান হয়েছে। দুই মেরু অঞ্চলে সবুজ আলোকচ্ছটা ছবিটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
ছবিতে পৃথিবীকে উল্টোভাবে দেখা যাচ্ছে; বাম দিকে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ এবং ডান দিকে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ চিহ্নিত করা গেছে। একই ছবির নিচের ডানদিকে উজ্জ্বল একটি বিন্দু হিসেবে দেখা গেছে শুক্র গ্রহ।
আরেকটি ছবিতে পৃথিবীর দিন ও রাতের বিভাজনরেখা, যা ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত, স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। পাশাপাশি প্রায় অন্ধকার পৃথিবীতে মানবসৃষ্ট বৈদ্যুতিক আলোর ক্ষীণ ঝলকও ধরা পড়েছে পৃথক একটি ছবিতে।
শুক্রবার ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করার পরই ক্রুরা এসব ছবি ধারণ করেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মহাকাশযানটি পৃথিবীর মহাকর্ষীয় প্রভাবমণ্ডল পেরিয়ে চাঁদের পথে অগ্রসর হয়। মহাকাশযানে থাকা চার নভোচারীকে চাঁদের নিকট পৌঁছাতে মোট প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে।
বর্তমানে আর্টেমিস টু এমন একটি চক্রাকার পথে রয়েছে, যা নভোচারীদের চাঁদের উল্টো পিঠ প্রদক্ষিণ করিয়ে পুনরায় পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনবে। ১৯৭২ সালের পর এই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে অবস্থান করছে।
মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন জানিয়েছেন, ইনজেকশন বার্ন শেষ হওয়ার পর ছবি তোলার জন্য তারা যেন জানালায় “আঠার মতো সেঁটে” ছিলেন। তিনি বলেন, চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার অংশের দৃশ্য অত্যন্ত মনোমুগ্ধকর।
দূর থেকে ছবি তোলার ক্ষেত্রে এক্সপোজার নির্ধারণে শুরুতে কিছুটা জটিলতায় পড়েন কমান্ডার ওয়াইজম্যান। পরবর্তীতে তিনি নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানালাগুলো পরিষ্কার করার উপায় জানতে চান।
নাসা পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের তোলা ছবির সঙ্গে বর্তমান ছবির সাদৃশ্য তুলে ধরে একটি তুলনামূলক চিত্র প্রকাশ করে। সংস্থাটি জানায়, প্রযুক্তিতে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সৌন্দর্য অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্রুরা সোমবার চাঁদের উল্টো পিঠ প্রদক্ষিণ করবেন এবং আগামী ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/৪/২০২৬