দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরো ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামজনিত এবং বাকি নয়জনের মৃত্যু হয়েছে হাম উপসর্গ নিয়ে। এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৬ মে) এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়সীমা ২৫ মে সকাল ৮টা থেকে ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৮৮ জনের, আর সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৬৭ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৫৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ৮৩ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে এবং তাদের মধ্যে ৯৪৫ জন ভর্তি হয়।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ভর্তি রোগী ছিল ঢাকা বিভাগে ৩৬৬ জন, এরপর চট্টগ্রামে ১৯৩ জন, বরিশালে ১৫৭ জন এবং রাজশাহীতে ৭৩ জন। একই সময়ে ১ হাজার ১৮১ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ দিনে দেশে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৬ হাজার ২৩ জনের মধ্যে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৫৩০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৪৮ হাজার ৮০০ জন সুস্থ হয়ে ফিরে গেছে। নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জনের।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবে দেখা যায়, নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫২ জন ঢাকায়, এরপর বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেটে ৩ জন এবং ময়মনসিংহ ও রাজশাহীতে ২ জন করে মারা গেছে।
অন্যদিকে সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ঢাকায় সর্বোচ্চ ১৮৪ জন, রাজশাহীতে ৮৩ জন, সিলেটে ৫৪ জন, চট্টগ্রামে ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ৪০ জন, বরিশালে ৩৫ জন, খুলনায় ২১ জন এবং রংপুরে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং দ্রুত টিকাদান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
সানা/আপ্র/২৬/৫/২০২৬