চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা ও সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, সেখানে সন্ত্রাসীদের দুঃসাহস ও উদ্ধত আচরণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র গড়ে তোলার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে পূর্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সন্ত্রাসীরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে “রাষ্ট্রের ভেতরে আরেকটি রাষ্ট্র” হিসেবে গড়ে তুলেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সেখানে অস্ত্র উদ্ধার ও দাগি আসামি গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্প্রতি সড়ক কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা ভাঙচুরের ঘটনার পর নতুন করে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
রোববার গভীর রাতে ওই এলাকায় মূল সড়ক কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্প লক্ষ্য করে ত্রিমুখী হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলির পাশাপাশি নির্মাণাধীন একটি ক্যাম্প ভেঙে ফেলা হয়। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে “ইয়াছিন বাহিনী”কে দায়ী করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি মামলা করা হয়েছে যেখানে প্রায় ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, র্যাব একাডেমি, ক্রীড়া পুলিশ কমপ্লেক্স, বিজিবি ও এপিবিএন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ একটি বৃহৎ নিরাপত্তা হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পুরো পরিকল্পনা এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, “সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের কোনো স্থান এই দেশে থাকবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশলগত সহায়তা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ জানিয়েছেন, রোববারের হামলায় কিছু “অসাবধানতা ও গোয়েন্দা দুর্বলতা” ছিল। তিনি বলেন, র্যাব ও পুলিশের মূল ক্যাম্পে হামলা হয়নি, বরং নতুন নির্মাণাধীন অস্থায়ী ক্যাম্পে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এলাকায় নতুন করে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার সুযোগ দেওয়া হবে না।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ ওই এলাকায় তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়ে বড় অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, যেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট অংশ নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০২-০৩ সাল থেকে দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় জনবসতি গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে এলাকাটি নানা অপরাধমূলক তৎপরতার জন্য আলোচনায় আসে।
সরকারি পর্যায়ে এখন জঙ্গল সলিমপুরকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রভাব সম্পূর্ণভাবে নির্মূলের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৬/৫/২০২৬