মহাকাশে রেকর্ড গড়া ঐতিহাসিক চন্দ্রাভিযান সম্পন্ন করে আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী এখন পৃথিবীর পথে ফিরছেন। তাঁদের এই প্রত্যাবর্তন যাত্রা সম্পন্ন হতে প্রায় চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহাকাশ সংস্থা।
নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে ১০ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটের দিকে ওরিয়ন মহাকাশযান প্রশান্ত মহাসাগরের পশ্চিম উপকূলে অবতরণ করবে। অবতরণের পরপরই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে নভোচারীদের উদ্ধার করে কাছাকাছি থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর একটি জাহাজে নেওয়া হবে। সেখানে তাঁদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে এবং পরে স্থলভাগে স্থানান্তর করা হবে।
গত ১ এপ্রিল কেনেডি মহাকাশ কেন্দ্র থেকে ‘ওরিয়ন’ ক্যাপসুলে চড়ে যাত্রা শুরু করেন চার নভোচারী-রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। চাঁদের পেছন দিক দিয়ে অতিক্রমের সময় তাঁদের মহাকাশযান পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ লাখ ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার দূরত্বে পৌঁছে নতুন রেকর্ড স্থাপন করে।
এর মাধ্যমে ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো–১৩ অভিযানের প্রায় ৪ লাখ ১৭১ কিলোমিটার দূরত্বের পুরনো রেকর্ড অতিক্রম হয়, যা এতদিন মানব মহাকাশযাত্রার সর্বোচ্চ দূরত্ব হিসেবে বিবেচিত ছিল।
অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে চাঁদের উল্টো পিঠে অবস্থানকালে নভোচারীরা আগে কখনও দেখা হয়নি এমন অঞ্চলের চিত্র ধারণ করেন, যার মধ্যে ওরিয়েন্টাল বেসিনের দৃশ্যও রয়েছে। এই সময় প্রায় ৪০ মিনিট মহাকাশযানের সঙ্গে পৃথিবীর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।
মিশন বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি এই ফ্লাইবাই ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে। কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যানের নেতৃত্বাধীন এই দলে একাধিক ঐতিহাসিক প্রথমও রয়েছে-ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, ক্রিস্টিনা কোচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করেছেন।
সব মিলিয়ে সফল এই চন্দ্রযাত্রা মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সানা/ডিসি/আপ্র/৭/৪/২০২৬