চীনে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর শিশুদের তুলনায় প্রবীণদের ভরণপোষণের চাপ বেড়েছে। দেশটির ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিশুদের নির্ভরতার হারকে ছাড়িয়ে গেছে প্রবীণদের নির্ভরতার হার। দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জন্মহার কমে যাওয়ার প্রভাব দেশটির জনমিতিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম ইচাই জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রবীণদের নির্ভরতার হার দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ১ শতাংশে। বিপরীতে শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার ছিল ২২ শতাংশ। অর্থাৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর তুলনায় এখন শিশুদের চেয়ে প্রবীণদের অনুপাত বেশি।
গত এক দশকে প্রবীণদের নির্ভরতার হার ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে এ হার ছিল ১৫ শতাংশ। ২০২১ সালেই তা ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২২ কোটি ৩০ লাখের বেশি। বিপরীতে ১৪ বছর বা তার কম বয়সী শিশুর সংখ্যা প্রায় ২১ কোটি ৩০ লাখ।
জন্মহার রেকর্ড পরিমাণে কমে যাওয়ায় ২০২৫ সালে টানা চতুর্থ বছরের মতো কমেছে চীনের মোট জনসংখ্যা। কয়েক দশক ধরে দেশটিতে জন্মহার কমার পেছনে ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা ‘এক সন্তান নীতি’ এবং দ্রুত নগরায়ণকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান জনমিতিক সংকট মোকাবিলায় বিয়ে ও সন্তান জন্মদানে নাগরিকদের উৎসাহিত করতে নানা ধরনের প্রণোদনা দিচ্ছে চীন সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা ও ভর্তুকি, সন্তান লালন-পালনে সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং প্রসবকালীন চিকিৎসাব্যয় কমানোর উদ্যোগ।
পাশাপাশি তরুণ সমাজ ও নতুন পরিবারের জন্য শহুরে জীবনকে আরো সহজ ও অনুকূল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জন্মহার বাড়ানো এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া চীনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সানা/আপ্র/৩০/১০/২০২৬