ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে নতুন করে জাতিগত সংঘাত ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পৃথক দুটি ঘটনায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শনিবার (৩১ অক্টোবর) নোনি জেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলিতে কুকি সম্প্রদায়ের তিনজন নিহত হন। অন্যদিকে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া একই সম্প্রদায়ের আরো দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার নোনি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে কুকি সম্প্রদায়ের তিন সদস্য প্রাণ হারান। এ ছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে নিখোঁজ হওয়া আরো দুই কুকি ব্যক্তির মরদেহ রোববার সকালে ক্যাংপোকপি জেলা থেকে উদ্ধার করা হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযানে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায়।
কুকি জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা মণিপুরের একটি শীর্ষ সংগঠন এ হত্যাকাণ্ডের জন্য নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, নিজেদের আদি ভূমিতে কুকিদের ওপর বিনা উসকানিতে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবিতে রাজ্যের রাজধানী ইম্ফলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
মণিপুরে কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজ নিজ জাতিগত ভূমির অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কুকি সম্প্রদায়ের কয়েকজন সদস্যের হাতে এক নাগা ব্যক্তি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরে গত মে মাসে নাগা সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে কুকি সম্প্রদায়ের তিন যাজক নিহত হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
কুকি-নাগা সংঘাতের পাশাপাশি মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যেও দীর্ঘদিন ধরে রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলছে। সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির কোটাকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের মে মাসে এ সংঘাত শুরু হয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই সম্প্রদায় এবং প্রধানত খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী কুকিদের মধ্যে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ এখনো বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। সূত্র: রয়টার্স।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬