ইসরায়েলের সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কোনো পক্ষ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠিত হলে ইসরায়েলের অস্তিত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। শনিবার এ আমন্ত্রণ পাওয়ার পর আইজেনকোটকে লক্ষ্য করে ভিডিওবার্তায় বক্তব্য দেন নেতানিয়াহু। তিনি সব ইহুদিপন্থি ও জাতীয়তাবাদী দলকে নিয়ে ঐক্য সরকার গঠনের আহ্বান জানান। আইজেনকোটকে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে প্রয়োজনে তাঁকে আরো ১৪ দিন সময় দেওয়া হতে পারে। এরপর সরকার গঠনের দায়িত্ব নেতানিয়াহুকে দেওয়া হতে পারে।
নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলো আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এসব দল হামাসের সমর্থক। তাদের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠিত হলে হামাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। এতে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ঐক্য সরকারে নিজের পুরোনো জোটের চরম জাতীয়তাবাদী দল রিলিজিয়াস জায়নজম, ওতজমা ইহুদিতসহ কট্টরপন্থি ধর্মীয় দলগুলোকে রাখতে চান নেতানিয়াহু। তবে এসব দলের উগ্র নীতির কারণে বিরোধীরা তাদের সঙ্গে সরকার গঠনে রাজি নয়।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের জবাবে আইজেনকোটের দল ইয়াশার তাঁকে ভণ্ডামি ও মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। দলটির দাবি, সত্যিই বৃহত্তর ঐক্য সরকার চাইলে লিকুদ পার্টি ও তার মিত্রদের আগে চরমপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট ভাঙতে হবে। আইজেনকোটের ঘোষিত চারটি নীতিও মেনে নিতে হবে।
আইজেনকোট জানিয়েছেন, হামাসের সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ধ্বংস, ইসরায়েলকে ইহুদিপন্থি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণার মূল্যবোধ গ্রহণ এবং সবার জন্য বাধ্যতামূলক পরিষেবা চালুর নীতি সমর্থনকারীদের নিয়েই তিনি সরকার গঠন করবেন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনাও নাকচ করেছেন তিনি।
সানা/ডিসি/আপ্র/৮/১১/২০২৬