গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

এক বছরের আগেই ফাঁকি দিতে শেখে শিশুরা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:০৫ পিএম, ১৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১৯:২১ এএম ২০২৬
এক বছরের আগেই ফাঁকি দিতে শেখে শিশুরা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

হাঁটতে শেখা বা প্রথম কথা বলার আগেই কিছু শিশু অন্যকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

গবেষণা বলছে, কিছু শিশু প্রথম পা ফেলার বা প্রথম কথা বলার আগেই অন্যকে ফাঁকি দেওয়ার প্রাথমিক কৌশলগুলো আয়ত্ত করে ফেলে। তাদের প্রথম জন্মদিনের আগেই তারা এমনটি শুরু করতে পারে।

সাড়ে সাতশ জন মা-বাবার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে করা এ গবেষণায় উঠে এসেছে, ১০ মাস বয়সী প্রায় এক-চতুর্থাংশ শিশু এ বয়সেই সাধারণ কিছু ছল শুরু করে। যেমন, মা-বাবার কথা শুনলেও না শোনার ভান করা, খেলনা লুকিয়ে রাখা বা আড়ালে গিয়ে নিষেধ করা কোনো খাবার খেয়ে ফেলা।

এদিকে, মা-বাবাদের দেওয়া তথ্য বলছে, তিন বছর বয়সে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কিছু শিশু ফাঁকি দেওয়ায় আরো দক্ষ, সৃজনশীল ও অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।

‘ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টল’-এর শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ও এ গবেষণার প্রধান লেখক এলেনা হোইকা বলেছেন, শিশুরা কত অল্প বয়স থেকে ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারে এবং প্রথম কয়েক বছরে তা কীভাবে ধাপে ধাপে বাড়ে তা উন্মোচনের বিষয়টি সত্যিই দারুণ।

শিশুদের এ প্রাথমিক পর্যায়ের ফাঁকি দেওয়ার আচরণ নিয়ে এতদিন খুব একটা গবেষণা হয়নি। হোইকার মতে, আগের বিভিন্ন গবেষণাতে প্রতারণা বা ছলনাকে সাধারণত খুব জটিল বিষয় হিসেবে দেখা হত, যার জন্য উন্নত ভাষা দক্ষতা ও অন্যের মন বোঝার গভীর সক্ষমতার প্রয়োজন বলে মনে হতো।

নতুন এ গবেষণায় পশুপাখির আচরণের ওপর নির্ভর করা হয়েছে, যেখানে কথা না বলেও অন্যকে ফাঁকি দেওয়ার প্রমাণ মেলে। যেমন, শিম্পাঞ্জিরা প্রায়ই দলের শক্তিশালী সদস্যদের আড়ালে গিয়ে খাবার খায়। আবার কিছু পাখি নকল বিপদের সংকেত দিয়ে অন্যদের ভয় দেখায়, যাতে এরা সুযোগ বুঝে খাবার চুরি করতে পারে।

অধ্যাপক হোইকা বলেছেন, অন্যকে ঠকানোর এ সক্ষমতা হুট করে তিন বা চার বছর বয়সে তৈরি হয় না। শুরুতে এগুলো পুরোপুরি মিথ্যা বা বড় কোনো জালিয়াতি নয়, বরং এগুলো কোনো কাজ করে পার পেয়ে যাওয়া বা বাড়তি কোনো সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা। তিন সন্তানের মা হিসেবে আমি নিজেও বলতে পারি শিশুরা কতটা চতুর ও কৌশলী হতে পারে। যেমন, টেবিলের নিচে বা বাথরুমে লুকিয়ে চকলেট বা মিষ্টি খাওয়া তাদের খুব সাধারণ এক কৌশল।

যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় চার বছরের কম বয়সী সাড়ে সাতশ জনেরও বেশি শিশুর মা-বাবার ওপর এ গবেষণাটি চলেছে। গবেষকরা তাদের সন্তানদের চাতুরি বা ছলনা শেখার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

গবেষণায় উঠে এসেছে, কিছু মা-বাবার মতে, তাদের সন্তান আট মাস বয়স থেকেই ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি বুঝতে শুরু করে। এ ধরনের আচরণ বেশ নিয়মিতই ঘটে। একবার এই কৌশল শিখে ফেললে দেখা যায়, চতুর হিসেবে পরিচিত অর্ধেক শিশুই গত এক দিনের মধ্যে কোনো না কোনো লুকোচুরি বা ফাঁকি দেওয়ার কাজ করেছে।

এদিকে, ২৪ মাস বয়স থেকে শিশুরা সাধারণত কাজের মাধ্যমে বা ছোট ছোট কথার মাধ্যমে অন্যকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। যেমন, মা-বাবা যখন ‘এখন সবকিছু গুছিয়ে রাখার সময়’ বলেন তখন শিশুর না শোনার ভান, অন্যের কাছ থেকে কোনো কিছু লুকিয়ে রাখা বা কোনো কিছু করে অস্বীকার করার মতো বিষয়। যেমন, চকলেট খেয়ে ফেলার পর জিজ্ঞাসা করলে মাথা নেড়ে ‘না’ বলা।

গবেষণার ফলাফল অনুসারে, বয়স তিন বছর হতে হতে শিশুরা আরো নানা ধরনের ফাঁকি দেওয়া বুঝতে ও করতে শেখে। এজন্য ভাষার ওপর দখল ও অন্যের মন কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে গভীর ধারণার প্রয়োজন হয়।

অধ্যাপক হোইকা বলেছেন, এই বয়সে শিশুরা কোনো বিষয় বাড়িয়ে বলা, কমিয়ে বলা বা পুরোপুরি বানিয়ে বলার মতো কাজ করতে পারে। যেমন মিথ্যা বলা যে, ‘ভুত এসে চকলেট খেয়ে ফেলেছে’। এরা তথ্য গোপন করতেও শেখে। যেমন এরা মা-বাবাকে ঠিকই বলবে যে তার ভাই বা বোন তাকে মেরেছে। তবে নিজে যে আগে মেরেছিল সেই তথ্যটি শিশুরা চেপে যাবে। তিনি আরো বলেছেন, এ গবেষণার উদ্দেশ্য মা-বাবা ও শিক্ষকদের আশ্বস্ত করা যে, শিশুদের এ বয়সে এমন আচরণ করা একেবারেই স্বাভাবিক। বিষয়টি নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে, যাতে তারা বুঝতে পারেন কোন বয়সে শিশুরা কেমন আচরণ করতে পারে এবং তারা যেন শিশুদের এই ‘ফাঁকি দেওয়া আচরণের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে’ থাকতে পারেন।

কানাডার ‘ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াটারলু’র প্রতারণা বিষয়ক দর্শনের বিশেষজ্ঞ ও এ গবেষণার সহ লেখক অধ্যাপক জেনিফার সল বলেছেন, দার্শনিকরা দীর্ঘকাল ধরে মানুষের প্রতারণার নৈতিকতা নিয়ে ভেবেছেন। তবে তারা সবসময় বড়দের একে অপরকে ঠকানোর বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। এ গবেষণায় ইঙ্গিত মেলে, কেবল বড়দের দিকে মনোযোগ দেওয়ার কারণে আমরা শিশুদের এ আচরণের কতটা জটিল দিক এড়িয়ে গিয়েছিলাম। 
গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে ‘কগনিটিভ ডেভেলপমেন্ট’ সাময়িকীতে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৭/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তি আলোচনার আশায় বিশ্ববাজারে কমল জ্বালানি তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর সম...

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভোটের জটিল সমীকরণে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেলেও আসনস...

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুটি দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিন...

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

৮৩ বছর বয়সে অবসর, আকাশে ৬৩ বছরের দীর্ঘ কর্মজীবন

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান এয়ারলাইনসের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সক্রিয় বিমানবালা ক্যারল ফেয়ার ৮৩ বছর বয়সে অবসরে গ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে