ইরানের ওপর সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ১০ হাজারের বেশি সেনাসদস্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
খবরে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ’ ও এর সহগামী যুদ্ধজাহাজ বহরে করে প্রায় ৬ হাজার সেনা ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে রওনা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে ওই অঞ্চলে ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ও ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’ নামে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন রয়েছে। নতুন রণতরী পৌঁছালে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে তিনে। পাশাপাশি মাসের শেষ দিকে ‘বক্সার অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’ ও ১১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের আরো ৪ হাজার ২০০ সেনা সেখানে যোগ দেবে।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অভিযানের পর এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ বিপুল সামরিক উপস্থিতি একদিকে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী করবে, অন্যদিকে এটি সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নির্দেশ করতে পারে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, ইরানকে ঘিরে তাদের নৌ অবরোধ এখন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ইরানের সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অবরোধ সত্ত্বেও কিছু জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে, যা এই অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে নতুন করে বৈঠক হতে পারে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, যার মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এর পর পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
এসি/আপ্র/১৬/০৪/২০২৬