ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের তরুণদের মাদকের বিরুদ্ধে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মাদক সাময়িকভাবে আনন্দ বা উত্তেজনা সৃষ্টি করলেও শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের কর্মজীবন, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দেয়।
রোববার (২ আগস্ট) ভার্চুয়ালি ‘উন্নত ভারতের জন্য মাদকমুক্ত তরুণ শপথ অভিযান’-এর উদ্বোধন করে মোদি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উন্নত ভারত গড়তে হলে দেশের তরুণদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। আর এ জন্য সব ধরনের মাদক থেকে দূরে থাকা জরুরি।
মোদি বলেন, কিছু শত্রু দেশও তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মাদক সরবরাহকে ব্যবহার করে। কারণ তারা জানে, তরুণরাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ।
মাদকাসক্তদের বিষয়ে সমাজের প্রচলিত নেতিবাচক ধারণা পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মাদকাসক্তি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তারা প্রকৃত অর্থেই যোদ্ধা। সমাজের উচিত তাদের সম্মান করা, আপন করে নেওয়া এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘মাদকমুক্ত যুব সমাজ’ শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও পুরো জাতির সম্মিলিত অঙ্গীকার। তরুণদের আত্মবিশ্বাসী, সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে মাদক থেকে দূরে রাখা অপরিহার্য।
মোদি দেশবাসীকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রত্যেককে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।
তিনি জানান, রোববার থেকেই দেশজুড়ে ‘নশামুক্ত যুব সমাজ’ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ১০০ সপ্তাহ ধরে প্রতি রোববার শিল্প, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা ও সেবামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকবিরোধী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
মোদি বলেন, আগামী ১০০টি রোববার হবে মাদকমুক্ত ভারতের পথে ১০০টি শক্তিশালী পদক্ষেপ।
মাদক পাচারের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। মোদি বলেন, দেশজুড়ে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগের তুলনায় গ্রেফতার বেড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে, যা সরকারের কঠোর অবস্থানের প্রমাণ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সানা/ডিসি/আপ্র/২/৮/২০২৬