গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সাপ মারতে বেজি ছেড়ে বিপদে পড়েছিল জাপান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫০ পিএম, ১৩ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২৩:৩৯ এএম ২০২৬
সাপ মারতে বেজি ছেড়ে বিপদে পড়েছিল জাপান
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিষধর সাপের উৎপাত কমাতে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে বেজি ছেড়েছিল কর্তৃপক্ষ। উদ্দেশ্য ছিল সাপের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু সেই উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনে। সাপের সংখ্যা কমার বদলে বেজির আক্রমণে বিপন্ন হয়ে পড়ে দ্বীপের বহু বিরল প্রাণী।

এই ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশেরও যোগ রয়েছে। ছোট ভারতীয় বেজি দক্ষিণ এশিয়ার স্থানীয় প্রাণী এবং বাংলাদেশও এর প্রাকৃতিক বিস্তারের অংশ। ১৯১০ সালে বর্তমান বাংলাদেশের গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চল থেকে কয়েকটি বেজি জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখানকার বংশবিস্তার করা বেজির মধ্য থেকেই ১৯৭৯ সালে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নিয়ে যাওয়া হয়।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আমামি ওশিমা দ্বীপে দীর্ঘদিন ধরেই বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব ছিল। কৃষিজমি ও বনাঞ্চলে এসব সাপের বিচরণ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিল। সাপের সংখ্যা কমাতে তাই প্রাকৃতিক শিকারি হিসেবে বেজিকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকে প্রায় ৩০টি বেজি আমামি ওশিমায় নেওয়া হয়। কিন্তু পরিকল্পনায় বড় একটি ভুল ছিল। বেজি সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয়, আর হাবু সাপ মূলত রাতে শিকার করে। ফলে দুই প্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল খুবই কম।

সাপের সংখ্যা কমেনি। বরং খাবারের সন্ধানে বেজি দ্বীপের অন্যান্য প্রাণী শিকার করতে শুরু করে।

আমামি ওশিমার অনেক স্থানীয় প্রাণী দীর্ঘদিন ধরে বড় কোনো স্থলচর শিকারির মুখোমুখি হয়নি। ফলে নতুন এই শিকারির বিরুদ্ধে তাদের প্রতিরোধও ছিল দুর্বল। বেজির শিকারে বিপন্ন হয়ে পড়ে বিরল আমামি খরগোশ, মাটিতে বাসা বাঁধা পাখি, বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ ও স্থানীয় ব্যাঙ। এতে দ্বীপটির জীববৈচিত্র্যের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়।

অল্পসংখ্যক বেজি দ্রুত বংশবিস্তার করে পুরো দ্বীপে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায় বলে ধারণা করা হয়।

শুরু হয় বেজি নির্মূল অভিযান

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বেজি নির্মূলে অভিযান শুরু করে জাপান সরকার। ২০০০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মূল কর্মসূচি শুরু হয়। পরে ২০০৫ সালে গঠন করা হয় বিশেষ দল ‘আমামি মঙ্গুজ বাস্টার্স’।

দ্বীপজুড়ে হাজার হাজার ফাঁদ বসানো হয়। বেজির গতিবিধি শনাক্ত করতে ব্যবহার করা হয় ক্যামেরা। তাদের লুকিয়ে থাকার স্থান খুঁজে বের করতে প্রশিক্ষিত কুকুরও কাজে লাগানো হয়।

দীর্ঘ অভিযানে ৩২ হাজারের বেশি বেজি ধরা ও অপসারণ করা হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে ছোট ভারতীয় বেজি নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে।

প্রায় ৩১ বছরের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই সাফল্য আসে। এরপর ধীরে ধীরে দ্বীপটির স্থানীয় প্রাণীদেরও ফিরে আসার লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করে।

সাপের উৎপাত ঠেকাতে যে বেজি আনা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই বেজিই আমামি ওশিমার জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়েছিল। ঘটনাটি পরিবেশে কোনো নতুন প্রজাতি বা শিকারি প্রাণী পরিচয় করিয়ে দেওয়ার আগে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বিবেচনার গুরুত্বও তুলে ধরে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসি/আপ্র/১৩/০৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইলন মাস্ককে ‘প্রকৃত প্রতিভাবান’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ইলন মাস্ককে ‘প্রকৃত প্রতিভাবান’ আখ্যা দিয়েছেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্ককে ‘প্র...

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ৬৮, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

স্পেনে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে ৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার।...

নেতানিয়াহুর জোটের জয়েও সরকার গঠন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

নেতানিয়াহুর জোটের জয়েও সরকার গঠন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের আংশিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।...

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্পাই ড্রোন আটকানোর দাবি ইরানের
২৯ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্পাই ড্রোন আটকানোর দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা ড্রোন নিরাপদে ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে