প্রথম প্রেমের কথা কি সত্যিই ভোলা যায়? জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম অপেক্ষা, লুকিয়ে লুকিয়ে কারও দিকে তাকানো কিংবা মনের কথা বলতে না পারার সেই অনুভূতি অনেকের কাছেই থেকে যায় আজীবনের এক বিশেষ স্মৃতি হয়ে।
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, প্রথম প্রেম দিবস (First Love Day)। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটির প্রচলন শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এটি পরিচিতি পায়। জীবনের প্রথম ভালো লাগার মানুষটিকে স্মরণ করার উপলক্ষ হিসেবেই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।
প্রথম প্রেম অনেক সময় নিঃশব্দেই জীবনে আসে। কারও হাসি ভালো লাগতে শুরু করে, দেখা না হলে মন খারাপ হয়, কথা বলার সুযোগ পেলে অকারণেই আনন্দ লাগে। কখন যে সেই ভালো লাগা প্রেমে রূপ নেয়, তা অনেক সময় নিজের কাছেও ধরা পড়ে না।
এই প্রথম প্রেমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে জীবনের অনেক ‘প্রথম’—প্রথম দেখা, প্রথম কথা, প্রথম একসঙ্গে হাঁটা, প্রথম অপেক্ষা কিংবা কাউকে লুকিয়ে ভালো লাগার অনুভূতি। সম্পর্কটি শেষ পর্যন্ত টিকে থাকুক বা না থাকুক, সেই মুহূর্তগুলো অনেকের কাছেই অমূল্য হয়ে থাকে।
সাহিত্য ও সংগীতেও প্রথম প্রেম বারবার ফিরে এসেছে। নচিকেতার গানে যেমন ধরা দিয়েছে প্রথম ভালোবাসার স্মৃতি, তেমনি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাদেব সাহা ও আহসান হাবীবসহ বহু কবির লেখায় প্রেমের আনন্দ, অপেক্ষা আর বিচ্ছেদের নানা অনুভূতি উঠে এসেছে।
তবে প্রথম প্রেমের গল্প সব সময় পূর্ণতার হয় না। কারও জীবনে তা পরিণতি পায়, আবার কারও কাছে থেকে যায় অপূর্ণ এক স্মৃতি হয়ে। কেউ প্রথম ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গেই জীবন কাটান, কেউ সময়ের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পুরোনো অধ্যায় পেছনে ফেলে আসেন।
তবু প্রথম প্রেমের আলাদা এক জায়গা থেকে যায়। কারণ জীবনে প্রথমবার কাউকে ঘিরে যে আবেগ, উত্তেজনা, অপেক্ষা কিংবা অভিমান তৈরি হয়, তার অভিজ্ঞতা আর কোনো সম্পর্কের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না।
হুমায়ুন আজাদের বহুল উদ্ধৃত একটি কথায় আছে, “দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম প্রেম বলে কিছু নেই। মানুষ যখন প্রেমে পড়ে, তখন প্রতিটি প্রেমই প্রথম প্রেম।”
তাই ১৮ সেপ্টেম্বর হতে পারে পুরোনো স্মৃতির পাতায় একবার ফিরে তাকানোর একটি উপলক্ষ। প্রথম ভালো লাগার মানুষটি আজ জীবনে থাকুন বা না থাকুন, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কিছু মুহূর্ত হয়তো এখনো মনের কোনো কোণে ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে।
আর যদি সেই প্রথম ভালোবাসার মানুষটিই আজও পাশে থাকেন, তাহলে দিনটি দুজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে আরও একটু বিশেষ।
ওআ/আপ্র/১৮/৯/২০২৬