বিশ্বজুড়ে কফি অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয়, যা আমাদের মনোযোগ তীক্ষ্ণ করতে এবং শক্তি বাড়াতে সাহায্য করার জন্য পরিচিত। আমাদের মধ্যে অনেকেই তাদের দিনটি ভালোভাবে শুরু করার জন্য ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গেসঙ্গেই এক কাপ উষ্ণ কফিতে চুমুক দিতে পছন্দ করেন। শক্তিদায়ক প্রভাব ছাড়াও, কফির সঙ্গে সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতার এক দীর্ঘ তালিকার যোগসূত্র রয়েছে, চলুন জেনে নেওয়া যাক কফি পান করার উপকারিতা সম্পর্কে-
১. শক্তি বাড়ায়
কফিতে ক্যাফেইন থাকে, যা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি উদ্দীপক। এটি ক্লান্তি দূর করতে ও শক্তি বাড়াতে পারে। এর কারণ হলো, ক্যাফেইন অ্যাডেনোসিন নামক একটি নিউরোট্রান্সমিটারের রিসেপ্টরগুলোকে ব্লক করে, যা মস্তিষ্কের অন্যান্য নিউরোট্রান্সমিটারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যেগুলো শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, যার মধ্যে ডোপামিনও রয়েছে।
একটি ছোট গবেষণায় দেখা গেছে যে, ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সাইক্লিং অনুশীলনের সময় ক্লান্ত হতে ১২% বেশি সময় লাগে এবং অংশগ্রহণকারীরা কম ক্লান্তির কথাও জানিয়েছেন।
২. টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
কিছু গবেষণা থেকে জানা যায় যে, নিয়মিত কফি পান করার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ৩০টি গবেষণার একটি বিশ্বস্ত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন প্রতি কাপ কফি পান করলে তা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ৬% কমিয়ে দেয়।
এর কারণ হলো কফি অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষের কার্যকারিতা বজায় রাখতে পারে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ইনসুলিন তৈরি করে।
৩. মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক
যদিও গবেষণায় মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে, কিছু গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে কফি আলঝেইমার রোগ এবং পারকিনসন রোগ সহ কিছু নির্দিষ্ট নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে।
১৩টি গবেষণার একটি পর্যালোচনা অনুসারে, যারা নিয়মিত ক্যাফেইন গ্রহণ করেন তাদের পারকিনসন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। শুধু তাই নয়, যারা ক্যাফেইন গ্রহণ করেন, ধীরে ধীরে তাদের পারকিনসন রোগের অগ্রগতিও ধীর হয়।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করার অভ্যাস ডিমেনশিয়া এবং মস্তিষ্কের সমস্যার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
কিছু গবেষণা অনুসারে, কফি চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে পরিবর্তন করতে এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য উপকারী হতে পারে।
১২টি গবেষণার একটি পর্যালোচনায় এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে বেশি পরিমাণে কফি পান শরীরের চর্বি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, বিশেষ করে পুরুষদের ক্ষেত্রে। অন্য একটি গবেষণায়, নারীদের ক্ষেত্রে কফি পানের পরিমাণ বৃদ্ধি শরীরের চর্বি হ্রাসের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
এছাড়াও, একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন এক থেকে দুই কাপ কফি পান করেন, তাদের শারীরিক কার্যকলাপের প্রস্তাবিত মাত্রা পূরণের সম্ভাবনা, যারা প্রতিদিন এক কাপের কম কফি পান করেন তাদের তুলনায় ১৭% বেশি। তবে এটি কফির কারণেই হয়, না কি এটি একটি সম্পর্ক মাত্র, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা করা প্রয়োজন।
৫. বিষণ্ণতা কমায়
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে কফি পান বিষণ্ণতা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। ১৪,০০০-এরও বেশি শিক্ষার্থীর ওপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন মাত্র ১ কাপ কফি পানের তুলনায়, প্রতিদিন অন্তত ৪ কাপ কফি পান বিষণ্ণতা হ্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এসি/আপ্র/০১/১০/২০২৬