গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

সম্পর্কে কে আগে ক্ষমা চাইবেন, কেন জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৫ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪১ এএম ২০২৬
সম্পর্কে কে আগে ক্ষমা চাইবেন, কেন জরুরি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

সম্পর্কে ঝগড়া, মনোমালিন্য কিংবা ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। কাছের মানুষের সঙ্গে মতের অমিল থেকে কখনো রাগের মাথায় এমন কথাও বলা হয়, যা অন্যজনকে কষ্ট দেয়। কিন্তু বিরোধ মিটে যাওয়ার পরও অনেক সময় দুজনের কেউই আগে কথা বলতে চান না। দুজনেই অপেক্ষা করেন, অন্যজন আগে ক্ষমা চাইবেন। এভাবে ছোট একটি অভিমান কখনো কখনো বড় দূরত্ব তৈরি করে।

প্রশ্ন হলো, সম্পর্কে কে আগে ক্ষমা চাইবেন? যিনি ভুল করেছেন, তাঁরই কি আগে এগিয়ে আসা উচিত? নাকি সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন যিনি, তিনি আগে কথা বলবেন? আসলে ক্ষমা চাওয়ার ক্ষেত্রে জেতা-হারার হিসাব থাকা উচিত নয়। নিজের ভুলের দায়িত্ব নেওয়া এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখানোই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কে কে আগে ক্ষমা চাইবেন?

নিজের কথা বা আচরণে অন্যজন কষ্ট পেয়েছেন বুঝতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরই আগে এগিয়ে এসে ক্ষমা চাওয়া উচিত। ভুলটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তার চেয়ে নিজের আচরণের প্রভাব বুঝতে পারা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক সময় দুজনেরই কিছু ভুল থাকে। একজন হয়তো রাগের মাথায় খারাপ কথা বলেছেন, অন্যজনও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঘাত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে কে প্রথম ভুল করেছেন, সেই হিসাব করতে গিয়ে সম্পর্কের দূরত্ব বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। দুজনই নিজেদের আচরণের দায় নিতে পারেন।

আবার আপনি হয়তো মনে করছেন, আপনার কোনো ভুল হয়নি। কিন্তু আপনার কোনো কথা বা আচরণে প্রিয় মানুষটি কষ্ট পেয়ে থাকলে তাঁর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন। নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার আগে তাঁর কথা শুনুন। তবে শুধু পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য নিজের ওপর অন্যায়ভাবে সব দোষ নেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

মনে রাখতে হবে, আগে ক্ষমা চাওয়া মানে ছোট হয়ে যাওয়া নয়; বরং সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পরিচয়।

অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখায়

আপনার কোনো কথা বা আচরণে কাছের মানুষ কষ্ট পেলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া বোঝায়, তাঁর অনুভূতিকে আপনি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর কষ্ট আপনার কাছে অবহেলার বিষয় নয়।

অভিমান ও ভুল বোঝাবুঝি কমায়

অনেক সময় ছোট একটি ঘটনা নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় কথা বন্ধ থাকে। কে আগে কথা বলবেন, কে আগে ক্ষমা চাইবেন—এমন ভাবনা দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়। আন্তরিকভাবে ক্ষমা চেয়ে কথা শুরু করলে ভুল বোঝাবুঝি মেটানোর সুযোগ তৈরি হয়।

নিজের ভুল স্বীকারের মানসিকতা তৈরি করে

মানুষ মাত্রই ভুল করে। কিন্তু সবাই নিজের ভুল সহজে স্বীকার করতে পারেন না। ক্ষমা চাইতে পারা অহংকারের বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি বোঝার মানসিকতা তৈরি করে। এতে সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাও বাড়ে।

বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে

কোনো কথা বা আচরণে প্রিয় মানুষের বিশ্বাসে আঘাত লাগলে শুধু চুপ করে থাকলে সমস্যার সমাধান হয় না। আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে আচরণে পরিবর্তন আনা বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

সম্পর্কের গুরুত্ব প্রকাশ করে

কখনো কখনো একটি আন্তরিক ক্ষমা বুঝিয়ে দেয়, নিজের জেদ বা অহংকারের চেয়ে সম্পর্কটি আপনার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি ভুল বুঝতে পেরেছেন এবং সম্পর্কের অস্বস্তি দূর করতে চান।

একই ভুলের পুনরাবৃত্তি কমায়

ক্ষমা চাওয়ার অর্থ শুধু আগের ঘটনা মিটিয়ে ফেলা নয়। কেন এমন হলো, অন্যজন কেন কষ্ট পেলেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে একই পরিস্থিতি এড়ানো যায়, সেটিও বোঝা জরুরি। এতে সম্পর্ক আরও পরিণত হয়।

কীভাবে ক্ষমা চাইবেন?

ক্ষমা চাইতে গেলে শুধু ‘দুঃখিত’ বলেই দায়িত্ব শেষ করবেন না। কোন আচরণের জন্য দুঃখিত, সেটি স্পষ্ট করে বলুন। যেমন, ‘রাগের মাথায় তোমাকে ওই কথাটা বলা আমার ঠিক হয়নি। তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য আমি সত্যিই দুঃখিত।’

এরপর অন্যজনের কথা মন দিয়ে শুনুন। নিজের ভুলের পক্ষে অজুহাত দাঁড় করানোর বদলে তাঁর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।

শুধু ক্ষমা চাইলেই কি সব ঠিক হয়?

না। মুখে ক্ষমা চাইলেই সব অভিমান বা কষ্ট মুহূর্তে দূর হয়ে যায় না। কখনো কাউকে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে সময় দিতে হয়। আবার বারবার একই ভুল করে শুধু ক্ষমা চাইলে সেই কথার গুরুত্বও কমে যায়। তাই ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি আচরণে পরিবর্তন আনতে হবে।

সম্পর্কে কে আগে ক্ষমা চাইলেন, সেটি বড় বিষয় নয়। বরং দুজনের কেউ ভুল করলে তা স্বীকার করতে পারছেন কি না এবং একে অপরের অনুভূতিকে সম্মান করছেন কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, ক্ষমা চাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়; এটি ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও সম্পর্কের প্রতি সম্মানের প্রকাশ।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, মিডিয়াম

এসি/আপ্র/০৪/১১/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

পেট ভরা থাকলেও ডেজার্ট খেতে ইচ্ছা করে কেন
০৩ নভেম্বর ২০২৬

পেট ভরা থাকলেও ডেজার্ট খেতে ইচ্ছা করে কেন

রেস্তোরাঁয় পছন্দের খাবার খেতে খেতে একসময় মনে হয়, আর খাওয়া সম্ভব নয়। পেট একেবারে ভরা। কিন্তু খাবার শে...

স্ট্রোক প্রতিরোধে হাঁটা ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব
০৩ নভেম্বর ২০২৬

স্ট্রোক প্রতিরোধে হাঁটা ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের গুরুত্ব

রক্ত জমাট বেঁধে মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে অথবা মস্তিষ্কের ধমনি ফেটে রক্তক্ষরণ হ...

ভালোবাসা পেতে জেন-জির ভরসা এখন জাদুবিদ্যায়
০২ নভেম্বর ২০২৬

ভালোবাসা পেতে জেন-জির ভরসা এখন জাদুবিদ্যায়

প্রেমের মানুষ খুঁজতে এখন আর শুধু ডেটিং অ্যাপের ওপর নির্ভর করছেন না তরুণেরা। কেউ ডায়েরিতে লিখে রাখছেন...

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন পাঁচ খাবার
০১ নভেম্বর ২০২৬

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন পাঁচ খাবার

যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমলে তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। শরীর থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ, প্রোটিন তৈরি, র...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সঠিক মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 12 ঘন্টা আগে