গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয় নাকি এফডিআর, কোথায় লাভ বেশি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:০৬ পিএম, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:০৭ এএম ২০২৬
সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয় নাকি এফডিআর, কোথায় লাভ বেশি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

জমানো টাকা কোথায় রাখলে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে—সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয়, ব্যাংকের স্থায়ী আমানত (এফডিআর), নাকি শেয়ারবাজারে? বিনিয়োগের আগে এমন প্রশ্ন অনেকেরই। তবে শুধু মুনাফার হার বিবেচনা করলেই চলে না; অর্থের নিরাপত্তা, ঝুঁকি, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।

দেশে তুলনামূলক নিরাপদ ও নির্দিষ্ট মুনাফার সুযোগ রয়েছে সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর সঞ্চয় ও ব্যাংকের এফডিআরে। তবে এসব মাধ্যমে মুনাফার হার, বিনিয়োগের সীমা ও শর্তে পার্থক্য রয়েছে।

সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ মুনাফা ১১.৯৮ শতাংশ

কম ঝুঁকিতে নির্দিষ্ট হারে মুনাফা পেতে সঞ্চয়পত্র জনপ্রিয় বিনিয়োগমাধ্যম। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৭৭ থেকে ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রসহ কয়েক ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচির জন্য আলাদা যোগ্যতা ও বিনিয়োগসীমা আছে। পাশাপাশি মুনাফার ওপর প্রযোজ্য করও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

ডাকঘর সঞ্চয়ে ১১.৮২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের তিন বছর মেয়াদি হিসাবে বিনিয়োগ করেও ভালো মুনাফার সুযোগ রয়েছে। ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে প্রথম বছর শেষে মুনাফার হার ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ১১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং তৃতীয় বছর শেষে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ।

অন্যদিকে, ৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগে মেয়াদ অনুযায়ী মুনাফার হার যথাক্রমে ১০ দশমিক ৬০, ১১ দশমিক ১৬ ও ১১ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সাধারণ হিসাবে সুদের হার ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এসব মুনাফার ওপর উৎসে কর প্রযোজ্য।

ব্যাংকের এফডিআরে সুদহার ভিন্ন

ব্যাংকের স্থায়ী আমানত বা এফডিআর পরিচিত ও সহজ বিনিয়োগমাধ্যম। এক মাস থেকে শুরু করে এক বছর বা তার বেশি মেয়াদে টাকা জমা রাখার সুযোগ রয়েছে। ব্যাংক ও মেয়াদভেদে সুদের হারও আলাদা।

বিভিন্ন ব্যাংকের এক বছর বা তার বেশি মেয়াদি আমানতে ৮ দশমিক ২৫ থেকে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে। তবে ব্যাংকভেদে এ হার কমবেশি হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে একাধিক ব্যাংকের সুদের হার ও শর্ত তুলনা করা জরুরি।

শুধু বেশি সুদের আশায় ব্যাংক নির্বাচন করা উচিত নয়। ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা, আমানত ফেরত দেওয়ার সামর্থ্য এবং সুশাসনের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।

ট্রেজারি বিল-বন্ডেও বিনিয়োগের সুযোগ

ব্যাংক আমানত ও সঞ্চয়পত্রের বাইরে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, এসব সরকারি ঋণপত্রের সুদহার ৮ দশমিক ১৮ থেকে ৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ। ট্রেজারি বিল সাধারণত স্বল্পমেয়াদি এবং বন্ড দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যম।

তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিক্রি করতে হলে বাজারদরের পরিবর্তনের কারণে লাভ বা লোকসান হতে পারে। তাই বিনিয়োগের আগে মেয়াদ, মুনাফা ও নগদায়নের নিয়ম জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

শেয়ারবাজার ও জমিতে লাভের সম্ভাবনা, ঝুঁকিও বেশি

দীর্ঘ মেয়াদে সম্পদ বাড়াতে শেয়ারবাজার ও জমিতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ভালো কোম্পানির শেয়ার কিনলে দাম বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে আয় হতে পারে। তবে শেয়ারের দাম কমে গেলে লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে। গুজব বা অন্যের পরামর্শে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির আয়, মুনাফা ও আর্থিক অবস্থা যাচাই করা জরুরি।

অন্যদিকে, জমির দাম বাড়লে ভালো মুনাফা পাওয়া সম্ভব। তবে জমি কিনতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। প্রয়োজনের সময় দ্রুত বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়াও কঠিন হতে পারে। জমি কেনার আগে দলিল, খতিয়ান, নামজারি ও মালিকানা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয় বিবেচ্য

আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রথমেই নিজের লক্ষ্য ও ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা বুঝতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে লাগতে পারে—এমন অর্থ দীর্ঘ মেয়াদে আটকে রাখা উচিত নয়। পাশাপাশি সব সঞ্চয় এক জায়গায় বিনিয়োগ না করে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে নির্দিষ্ট মুনাফার ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘরের মেয়াদি সঞ্চয়ে তুলনামূলক বেশি আয়ের সুযোগ রয়েছে। এফডিআরে মুনাফার হার কিছুটা কম হলেও ব্যাংক ও মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুবিধা আছে। অন্যদিকে, শেয়ারবাজার ও জমিতে বেশি মুনাফার সম্ভাবনা থাকলেও এসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি এবং নগদায়নের সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

তাই বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু মুনাফার হার নয়, অর্থের নিরাপত্তা, বিনিয়োগের মেয়াদ এবং নিজের আর্থিক প্রয়োজনও বিবেচনায় রাখা উচিত।

এসি/আপ্র/০৪/১১/২০২৬

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চার মাসে রপ্তানি আয় ছাড়ালো ১৭ বিলিয়ন ডলার
০২ নভেম্বর ২০২৬

চার মাসে রপ্তানি আয় ছাড়ালো ১৭ বিলিয়ন ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৭ দশমিক ০৪ ব...

দুই দিনে ভরিতে সোনার দাম কমলো ৭১১৪ টাকা
৩১ অক্টোবর ২০২৬

দুই দিনে ভরিতে সোনার দাম কমলো ৭১১৪ টাকা

দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবচে...

তিনমাসের বকেয়াসহ রোববার নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা
৩১ অক্টোবর ২০২৬

তিনমাসের বকেয়াসহ রোববার নতুন পে-স্কেলে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) তিন মাসের বকেয়াসহ বর্ধিত বেতন পাওয়ার কথা সরকারি...

জাপানের সঙ্গে বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ
৩০ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের সঙ্গে বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার এবং বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ। অবকাঠাম...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাস্তায় যারা এখন আন্দোলন করছে তাদের সঙ্গে শ্রমিকদের কোনো সম্পর্ক নেই। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য একটি মহল অপচেষ্টা করছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে চিংড়ি মহাল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি মন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সঠিক মনে করেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 12 ঘন্টা আগে