যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে বিভিন্ন আসনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিক ফলাফলে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। এসব ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ও উচ্চকক্ষ সিনেট—উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকান পার্টির।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হবে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫১টি আসন।
প্রাথমিক ফলাফলে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পেয়েছেন। উত্তর ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে গেছে। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ হ্যাম্পশায়ারেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদের ফলাফলও এখনো পুরোপুরি প্রকাশিত হয়নি। সব আসনের ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
এবারের নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। এর মধ্যে নিয়মিত নির্বাচনে ৩৩টি আসনের পাশাপাশি দুটি বিশেষ নির্বাচন রয়েছে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সব ৪৩৫টি আসনেই ভোট হচ্ছে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের কোনো একটি বা উভয়টির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্য আইন প্রণয়ন ও নীতিনির্ধারণে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তবে নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের পরই কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সূত্র: বিবিসি ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
এসি/আপ্র/০৪/১১/২০২৬