আমাদের অনেকেরই মিষ্টির প্রতি আলাদা দুর্বলতা রয়েছে। রসগোল্লা, সন্দেশ, লাড্ডু, বরফি কিংবা রসমালাই—পছন্দের মিষ্টি দেখলে জিভে জল আসে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে পারিবারিক আয়োজন কিংবা উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়া—সব ক্ষেত্রেই মিষ্টির উপস্থিতি যেন অপরিহার্য। কিন্তু দোকানের সাজানো বাহারি রং, আকর্ষণীয় প্যাকেট কিংবা লোভনীয় স্বাদ দেখেই মিষ্টির গুণমান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
মিষ্টির স্বাদ ও পরিমাণ বাড়াতে কিংবা উৎপাদন খরচ কমাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের ভেজাল উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে দুধ ও দুধজাত উপকরণ দিয়ে তৈরি মিষ্টিতে স্টার্চ, নিম্নমানের উপাদান, কৃত্রিম রং কিংবা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানোর আশঙ্কা থাকে। এসব উপাদান শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পছন্দের মিষ্টি কেনা কিংবা খাওয়ার আগে এর মান ও বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
কিছু সাধারণ ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ভেজাল উপাদানের উপস্থিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব পরীক্ষা দিয়ে সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়। জেনে নিন কয়েকটি প্রাথমিক পরীক্ষার পদ্ধতি।
যেসব মিষ্টিতে ভেজালের আশঙ্কা বেশি
দুধ ও দুধজাত উপাদান দিয়ে তৈরি মিষ্টিতে ভেজালের আশঙ্কা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা হয়। রসগোল্লা, সন্দেশ, বরফি, রসমালাই কিংবা কালোজামের মতো মিষ্টি তৈরিতে দুধ, ছানা ও চিনি ব্যবহার করা হয়। উৎপাদন খরচ কমাতে বা মিষ্টির পরিমাণ বাড়াতে নিম্নমানের উপাদান কিংবা অনুপযুক্ত বিকল্প উপকরণ ব্যবহার করা হতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে স্টার্চ, ডিটারজেন্ট কিংবা ইউরিয়ার মতো ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর অভিযোগও পাওয়া যায়। তবে সব দোকান বা সব মিষ্টিতে এমন ভেজাল থাকে, এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
মিষ্টিতে স্টার্চ থাকলে বুঝবেন যেভাবে
মিষ্টির পরিমাণ বাড়াতে কখনো কখনো স্টার্চ মেশানো হতে পারে। এটি শনাক্ত করার জন্য আয়োডিন ব্যবহার করে একটি প্রাথমিক পরীক্ষা করা যায়।
প্রথমে মিষ্টির সামান্য অংশ নিয়ে পানিতে মিশিয়ে নিন। এরপর মিশ্রণে কয়েক ফোঁটা আয়োডিন দ্রবণ দিন। মিশ্রণটি নীল বা নীলচে-বেগুনি রং ধারণ করলে তাতে স্টার্চ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিটারজেন্টের উপস্থিতি নিয়ে সতর্ক থাকুন
দুধ বা দুগ্ধজাত উপাদানে ডিটারজেন্ট মেশানোর অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। ডিটারজেন্টের কারণে অস্বাভাবিক ফেনা তৈরি হতে পারে।
তবে শুধু মিষ্টি পানিতে মিশিয়ে ঝাঁকানোর পর ফেনা তৈরি হলেই ডিটারজেন্ট রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। মিষ্টির উপাদান ও অন্যান্য পদার্থের কারণেও ফেনা তৈরি হতে পারে। তাই এমন সন্দেহ হলে মিষ্টিটি না খাওয়াই ভালো। প্রয়োজনে পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করাতে হবে।
রুপালি মোড়ক আসল কি না খেয়াল করুন
অনেক মিষ্টির ওপর আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য রুপালি পাতলা মোড়ক ব্যবহার করা হয়। তবে সব রুপালি মোড়কই খাঁটি রুপার তৈরি নয়। কিছু ক্ষেত্রে অ্যালুমিনিয়াম বা অন্য উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে।
শুধু হাত দিয়ে ঘষে বা মোড়ক উঠে যাচ্ছে কি না দেখে এর বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা যায় না। মোড়কের উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হতে নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং প্রয়োজনে পরীক্ষাগারের সহায়তা প্রয়োজন।
মিষ্টি কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
মিষ্টি কেনার সময় শুধু দাম কিংবা বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত দোকান থেকে মিষ্টি কেনার চেষ্টা করুন। প্যাকেটজাত মিষ্টি হলে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং উপাদানের তালিকা দেখে নিন।
অস্বাভাবিক উজ্জ্বল রং, দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক স্বাদ কিংবা গঠনে পরিবর্তন দেখা গেলে সেই মিষ্টি এড়িয়ে চলুন। খোলা মিষ্টি কেনার সময় দোকানের পরিচ্ছন্নতা, সংরক্ষণের ব্যবস্থা এবং খাবার ঢেকে রাখা হচ্ছে কি না, সেদিকেও নজর দিন।
ঘরোয়া পরীক্ষার মাধ্যমে সব ধরনের ভেজাল শনাক্ত করা সম্ভব নয়। কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কৃত্রিম রং সাধারণ পরীক্ষায় ধরা নাও পড়তে পারে। তাই মিষ্টির মান নিয়ে সন্দেহ হলে সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
মিষ্টিমুখ অবশ্যই করুন, তবে সচেতনভাবে। কারণ কয়েক মুহূর্তের স্বাদের জন্য নিজের ও পরিবারের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নেওয়া কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি ফুড
এসি/আপ্র/০৮/১১/২০২৬