গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ভালো সিদ্ধান্তের শিক্ষা মিলবে পিঁপড়া-মৌমাছির কাছ থেকে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৫২ পিএম, ১২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:১০ এএম ২০২৬
ভালো সিদ্ধান্তের শিক্ষা মিলবে পিঁপড়া-মৌমাছির কাছ থেকে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

জীবনে প্রতিদিনই নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখন কোথায় যাব, কোন কাজটি আগে করব কিংবা কোনো ঝুঁকি নেওয়া উচিত কি না—এমন অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্ত আমাদের জীবনকে প্রভাবিত করে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ ভুল করলেও আশ্চর্যজনকভাবে ক্ষুদ্র পোকামাকড়ের আচরণ থেকেও কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের নানা শিক্ষা পাওয়া যায়।

গবেষকেরা দেখেছেন, পিঁপড়ে, মৌমাছি, ঘাসফড়িং, তেলাপোকা এমনকি ফলের মাছিও পরিস্থিতি অনুযায়ী কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এসব প্রাণীর আচরণ অনুসরণ করে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতি, যা পরিবহন, যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ নানা ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পিঁপড়া শেখায় সবচেয়ে কার্যকর পথ বেছে নিতে

একসঙ্গে অনেক বিকল্প সামনে এলে মানুষ প্রায়ই সিদ্ধান্তহীনতায় পড়ে। পিঁপড়ের দলও খাবারের সন্ধানে বিভিন্ন পথ ও সম্ভাব্য জায়গা পরীক্ষা করে।

যে পথে খাবার পাওয়া যায়, সেই পথে চলার সময় পিঁপড়েরা ফেরোমোন নামের রাসায়নিক সংকেত রেখে যায়। অন্য পিঁপড়েরা সেই সংকেত অনুসরণ করে। অপেক্ষাকৃত ছোট ও কার্যকর পথে দ্রুত যাতায়াত হওয়ায় সেখানে বেশি ফেরোমোন জমা হয়। অন্যদিকে কম কার্যকর পথের সংকেত ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

ফলে পুরো দল কোনো কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়াই ধীরে ধীরে সবচেয়ে কার্যকর পথটি বেছে নেয়।

এই ধারণা থেকেই তৈরি হয়েছে ‘অ্যান্ট কলোনি অপটিমাইজেশন’ পদ্ধতি, যা পরিবহন, যোগাযোগ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পথ খুঁজতে ব্যবহৃত হয়েছে।

মৌমাছি শেখায় সবার মতামত শুনতে

নতুন বাসা কোথায় তৈরি করবে, সে সিদ্ধান্তেও মৌমাছিরা দলগত পদ্ধতি অনুসরণ করে। সম্ভাব্য জায়গা খুঁজে ফিরে আসা মৌমাছিরা ‘ওয়্যাগল ড্যান্স’-এর মাধ্যমে অন্যদের কাছে জায়গাটির দূরত্ব, দিক ও মান সম্পর্কে তথ্য দেয়।

ভালো জায়গা হলে মৌমাছি বেশি সময় ও জোর দিয়ে নাচে। পরে অন্য মৌমাছিরা সেই স্থান যাচাই করে। পর্যাপ্তসংখ্যক মৌমাছি কোনো একটি জায়গার পক্ষে সমর্থন দিলে সেটিই দলের পছন্দ হিসেবে নির্বাচিত হয়।

মানুষের জন্য এর শিক্ষা হলো—সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু নিজের মতের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন মানুষের মতামত শোনা এবং প্রয়োজন হলে তথ্য যাচাই করা উপকারী।

ঘাসফড়িং শেখায় কখনো থেমে যেতে

একটি দলের সবাই যদি নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকে, তাহলে মতবিরোধ মেটানো কঠিন হতে পারে। ঘাসফড়িংয়ের দলগত আচরণ নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, তারা কখনো একটি দিকে চলতে চলতে হঠাৎ থেমে যায় এবং কিছু সময় নিরপেক্ষ থাকে। এরপর নতুন কোনো দিকে চলা শুরু করে।

গবেষকদের মতে, সাময়িক এই নিরপেক্ষতা দলটিকে পুরোনো সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।

মানুষের ক্ষেত্রেও সব সময় সঙ্গে সঙ্গে কোনো পক্ষ নেওয়া জরুরি নয়। কখনো থেমে পরিস্থিতি নতুন করে দেখা এবং নিজের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করাও ভালো সিদ্ধান্তের অংশ হতে পারে।

তেলাপোকা শেখায় ভিন্ন মতের গুরুত্ব

তেলাপোকার দলগত আচরণ নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু তেলাপোকা বেশি অনুসন্ধানী, আবার কিছু তুলনামূলকভাবে সতর্ক।

গবেষণায় দেখা গেছে, দলের সব সদস্যের আচরণ একই হলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। বিপরীতে বিভিন্ন ধরনের আচরণ ও ব্যক্তিত্বের সদস্য থাকলে দল অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকরভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এর শিক্ষা হলো, একটি দলের শক্তি শুধু সবার একমত হওয়ার মধ্যে নয়; বরং ভিন্ন মত ও আচরণের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির মধ্যেও রয়েছে।

ফলের মাছি শেখায় অনুভূতিকেও গুরুত্ব দিতে

ফলের মাছি বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আচরণেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গুরুত্বপূর্ণ দিক দেখা যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দুটি গন্ধের মধ্যে পার্থক্য কম হলে তারা সিদ্ধান্ত নিতে বেশি সময় নেয়।

আবার সুস্বাদু কিন্তু কম পুষ্টিকর খাবার এবং তেতো কিন্তু বেশি পুষ্টিকর খাবারের মধ্যে বেছে নেওয়ার সময় তারা সম্ভাব্য সুবিধা-অসুবিধার হিসাব করে। তাদের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। ক্ষুধা বা চাপের মতো পরিস্থিতিতে তাদের আচরণ বদলে যেতে পারে।

মানুষের ক্ষেত্রেও ক্ষুধা, ভয়, চাপ, অতীত অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত অনুভূতি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। তাই নিজের অনুভূতিকে পুরোপুরি উপেক্ষা না করে সেটির কারণ বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ।

ছোট প্রাণী, বড় শিক্ষা

পিঁপড়ে থেকে মৌমাছি, ঘাসফড়িং থেকে তেলাপোকা—ক্ষুদ্র এসব প্রাণীর আচরণ দেখায়, ভালো সিদ্ধান্ত সব সময় বিপুল তথ্য বা বড় মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর করে না।

কখনো বিভিন্ন বিকল্প পরীক্ষা করে সবচেয়ে কার্যকর পথ বেছে নিতে হয়, কখনো অন্যের মতামত শুনতে হয়। আবার কখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একটু থেমে পরিস্থিতি নতুন করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে একটি দলে ভিন্ন মতের গুরুত্ব এবং নিজের অনুভূতির প্রভাবও বিবেচনায় রাখা দরকার।

মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জটিল জগতে তাই কখনো কখনো বড় কোনো তত্ত্বের বদলে আমাদের চারপাশের ক্ষুদ্র প্রাণীর আচরণও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

এসি/আপ্র/১২/০৮/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেছে নেবেন

ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? সকালের নাশতা কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে মাখানা ও পপকর্নের মধ্যে কোনটি...

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

নারী পাশে থাকলে ব্যথা কম অনুভব করেন পুরুষেরা

ব্যথা কতটা তীব্র, তা শুধু শারীরিক উদ্দীপনার ওপরই নির্ভর করে না; আশপাশের পরিস্থিতি এবং সামনে থাকা ব্য...

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন
২৮ অক্টোবর ২০২৬

সম্পর্কে জড়ানোর আগে যে পাঁচ বিষয় খেয়াল রাখবেন

নতুন কারো সঙ্গে পরিচয়, সাবলীল কথোপকথন, এরপর তার পরবর্তী বার্তার অপেক্ষা—এভাবেই কখনো কখনো অল্প সময়ের...

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ
২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব উপকরণ

উৎসব কিংবা অতিথি আপ্যায়ন—সব আয়োজনেই ঘরকে নতুনভাবে সাজিয়ে তুলতে চান অনেকে। তবে ঘর সাজানোর জন্য নতুন আ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে