গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কুমারী পূজা উদযাপন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:২১ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:১৬ এএম ২০২৬
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে কুমারী পূজা উদযাপন
ছবি

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে কুমারী পূজা -ছবি সংগৃহীত

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে রাজধানীর গোপীবাগে রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে কুমারী পূজা। শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল ও উলুধ্বনির মধ্যে কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ভোর থেকেই চণ্ডীপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহাষ্টমীর পূজা। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে দেবী দুর্গা কোলাসুরকে বধ করেছিলেন। মহাষ্টমীতে তাই এক থেকে ১৬ বছর বয়সী অজাতপুষ্পা ও সুলক্ষণা কুমারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করার রীতি রয়েছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, প্রতিটি নারীর মধ্যেই মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে। কুমারী পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

সূর্যোদয়ের আগেই রামকৃষ্ণ মিশনে শুরু হয় মহাষ্টমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। সকাল সাড়ে ৯টায় সুসজ্জিত আসনে অধিষ্ঠিত করা হয় কুমারীকে। এরপর পঞ্চনৈবেদ্য নিবেদনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর আরাধনা। ভোরে স্নান করিয়ে কুমারীকে নতুন পোশাক পরানো হয়। পরে সাজসজ্জা শেষে কপালে সিঁদুর, পায়ে আলতা ও হাতে ফুল দেওয়া হয়।

সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে অর্থাৎ ১৬টি উপাচারে দেবীজ্ঞানে কুমারীর পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, ঢাকের বোল, উলুধ্বনি ও দেবীস্তোত্রে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ।

নারীর প্রতি সম্মান জানানোর প্রতীক কুমারী পূজা
কুমারী পূজার তাৎপর্য তুলে ধরে রামকৃষ্ণ মিশনের পুরোহিতরা বলেন, দুর্গাপূজায় যে প্রতিমার পূজা করা হয়, কুমারী পূজা তারই জীবন্ত রূপের আরাধনা। তাঁদের মতে, আধুনিক পৃথিবীতে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংকট কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হলে নারীর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন জরুরি।

তাঁরা আরো বলেন, বিশ্বের অনেক স্থানে নারীকে স্ত্রী বা সহযোগীরূপে সম্মান দেওয়া হয়। কিন্তু নারীর সবচেয়ে মহিমাময় রূপ মাতৃরূপ। মহাষ্টমী তিথিতে জগতের সব মাতৃজাতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কুমারী মাতাকে প্রণাম করা হয়। এর মধ্য দিয়ে আদ্যাশক্তির প্রতিও প্রণতি নিবেদন করা হয়।

এদিকে রামকৃষ্ণ মিশনের প্রবেশদ্বার গোপীবাগ মোড় থেকে গোপীবাগ মাজার পর্যন্ত দর্শনার্থী ও পূজারিদের ব্যাপক উপস্থিতিতে টিকাটুলী, পুরোনো ইত্তেফাক মোড়সহ আশপাশের এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। মোড় থেকে হেঁটে নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে সুশৃঙ্খলভাবে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন ভক্তরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টার কুমারী পূজা শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
সানা/আপ্র/১৯/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী
১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ই মুখ্য: প্রধানমন্ত্রী

মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দে...

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান, পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের
১৯ অক্টোবর ২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান, পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য...

মহাষ্টমীতে ঢাকেশ্বরীতে বিহিত পূজা, রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা
১৯ অক্টোবর ২০২৬

মহাষ্টমীতে ঢাকেশ্বরীতে বিহিত পূজা, রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা

শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহাষ্টমী। রাজধানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দিনভর পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি ও ধর্মীয় আনুষ...

ভালো কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের প্রতি আন্তরিক ইচ্ছা: তারেক রহমান
১৯ অক্টোবর ২০২৬

ভালো কাজের সবচেয়ে বড় শক্তি মানুষের প্রতি আন্তরিক ইচ্ছা: তারেক রহমান

দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন,...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাংলাদেশের মতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বের কোথাও নেই: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত বিশ্বের অন্য কোথাও নেই বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে যখন হানাহানি ও হিংসার আগুন জ্বলছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষ্যে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 10 ঘন্টা আগে