গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

মেনু

মজুরি আন্দোলনে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, ৪০০ কারখানায় ছুটি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২৫ পিএম, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১২ এএম ২০২৬
মজুরি আন্দোলনে উত্তাল শিল্পাঞ্চল, ৪০০ কারখানায় ছুটি
ছবি

রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দিনভর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সাভার এলাকার ছবিটি সংগৃহীত

ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠছে। সোমবার (২ নভেম্বর) রাজধানীর মিরপুর, সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে দিনভর বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করেছে। সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে সাভার-আশুলিয়া ও গাজীপুরের প্রায় ৪০০ পোশাক কারখানায় সোমবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে সাভার-আশুলিয়ায় ২৬৪টি এবং গাজীপুরে দেড় শতাধিক কারখানা রয়েছে। আটটি কারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

এদিকে রাজধানীর মিরপুরে টানা দুই দিনের সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে গাজীপুরে পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটিতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। সাভার-আশুলিয়ায় সংঘর্ষের সময় একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকালে সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠক শেষে তিনি অভিযোগ করেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে ব্যবহার করে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর ও একটি মহল দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিছু শিল্পমালিকও এ তৎপরতায় জড়িত বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি, পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপন এবং নতুন মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের এই অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ উঠে এসেছে। কারণ, প্রায় ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এবং দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থায় উৎপাদন, রপ্তানি চালান ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সাভার-আশুলিয়ায় ২৬৪ কারখানায় ছুটি, সংঘর্ষে আহত বহু: সোমবার সকাল থেকেই সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি দিয়ে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে প্রথমে অনন্ত গ্রুপ এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে তাঁরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।

সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্থানে সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। তাঁদের সরিয়ে দিতে পুলিশ লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে কয়েক দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। শিল্প পুলিশের কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন।

দুপুর ১২টার দিকে নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সড়কের পাশের অধিকাংশ চালু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে ২৬৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, আর্টিস্টিক ডিজাইন, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারী গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড এবং জি কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আর্টিস্টিক কারখানার সামনেও বিক্ষোভের সময় অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ জানান, সংঘর্ষে ইটপাটকেলের আঘাতে তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

এদিকে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁরা শ্রমিক নাকি বহিরাগত, তা যাচাই করা হচ্ছে।

সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু সংঘাতপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পতিত সরকারের দোসর ও বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। শিল্প পুলিশের পক্ষ থেকেও অভিযোগ করা হয়েছে, বহিরাগতরা শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হয়ে মহাসড়কে আসতে উৎসাহিত করছে।

এদিকে সোমবার বিকেলে শিল্প পুলিশ-২-এর আশুলিয়া অঞ্চলের পুলিশ সুপার মো. মুমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে ২৬৪টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

গাজীপুরে পুলিশের তিন গাড়িতে হামলা, মহাসড়কে অচলাবস্থা: গাজীপুরেও সোমবার সকাল থেকে শ্রমিক বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ ও কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

দুপুরে গাজীপুর নগরের নাওজোড় এলাকায় বিক্ষোভকারীরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং একটিতে আগুন দেন। এ সময় বাস ও ট্রাকও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকেরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।

এদিকে গাজীপুরের চন্দ্রা-পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ এবং চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের পুনর্বহালের বিষয়টিও রয়েছে।

মিরপুরে চার মামলা, সাড়ে ১০ হাজার অজ্ঞাতনামা আসামি: রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা দুই দিনের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর থানায় একটি মামলা হয়েছে। এতে অজ্ঞাতনামা তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবারও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে তাঁর থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামা দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনকে কাজে লাগিয়ে মিরপুরে সহিংসতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাঁদের কেউ কেউ অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিলেন। আন্দোলনের আড়ালে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনাও ছিল বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মী রয়েছেন। তাঁরা স্থানীয় পোশাক কারখানার শ্রমিক নন বলে দাবি পুলিশের। বিভিন্ন জেলা থেকে এসে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার উদ্দেশ্যে তাঁরা মিরপুরে জড়ো হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্তাধীন।

সোমবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকার একটি গলি দিয়ে শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ধাওয়া দেয় এবং কয়েকটি কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। পরে মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশের প্রশিকা মোড় এলাকায়ও শ্রমিকেরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রূপনগর এলাকা থেকে বিচ্ছিন্নভাবে দলে দলে শ্রমিকেরা মিরপুর-২ নম্বর স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে প্রশিকা মোড়ের দিকে আসছিলেন। তাঁরা সড়কে নামার চেষ্টা করলে বেলা ১১টার দিকে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

টানা দুই দিনের সংঘর্ষের পর সোমবার সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দাঙ্গা দমনের যান ও জলকামান প্রস্তুত রাখা হয়। তবে মিরপুর-১০ নম্বরসহ আশপাশের সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল।

এর আগে রোববার মিরপুর-১০ নম্বর মোড়ে শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করলে সকাল থেকে যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেলা সোয়া ১১টার দিকে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ লাঠিপেটা, জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। অন্যদিকে শ্রমিকদের একাংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। একপর্যায়ে মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। সংঘর্ষের কারণে মিরপুর-১০, ১১ ও পল্লবী মেট্রোস্টেশন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৫৮ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এর আগের দিন শনিবারও একই দাবিতে মিরপুরের বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করেছিলেন শ্রমিকেরা।

এক দিনের অস্থিরতায় ৫২৯ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত: শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব শুধু সোমবারের পরিস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। বিজিএমইএর দেওয়া পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলের মোট ৫২৯টি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এসব কারখানার প্রায় ৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ শ্রমিক কর্মস্থল ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ২৭৬টি কারখানার ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৩৬০ শ্রমিক, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী অঞ্চলের ১৮৫টি কারখানার ২ লাখ ৯০ হাজার ২০৫ শ্রমিক এবং ঢাকা মহানগর এলাকার ৬৮টি কারখানার ৫১ হাজার ৬২৫ শ্রমিক আন্দোলনের কারণে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কারখানাগুলোতে এ ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, আলোচনায় সমাধানের চেষ্টা: শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে সরকার ছয় সদস্যের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। রোববার বোর্ড গঠনের উদ্যোগের কথা জানানো হলেও সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, বোর্ডের প্রথম সভা ওই দিনই হতে পারে। তা সম্ভব না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার সচিবালয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিছু শিল্পমালিক উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাঁদের তালিকা দিতে মালিক সংগঠনগুলোকে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত শ্রমিকনেতা ও সংগঠনগুলোর নামও চাওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, পতিত শক্তির দোসররা শ্রমিকদের ব্যবহার করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কিছু শিল্পমালিক, এমনকি সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীও এ তৎপরতায় জড়িত। তাঁর দাবি, সহিংসতায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাঁদের কর্মকাণ্ডের অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগাযোগ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুলিশের সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো শিল্পকারখানা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ থাকুক, সরকার তা চায় না। শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাকশিল্পের মালিকেরা উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার চাপের কারণে এক ধাপে মজুরি দ্বিগুণ করার বাস্তবতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। শ্রমিক প্রতিনিধিরা অবশ্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে মজুরি বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।
সানা/আপ্র/০২/১১/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় ২৬ জন কারাগারে
০২ নভেম্বর ২০২৬

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে তিন মামলায় ২৬ জন কারাগারে

রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুলিশের ওপর হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়...

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে ২২ দিন
০২ নভেম্বর ২০২৬

২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে ২২ দিন

২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। নতুন তালিকা অনুযায়ী, আগামী বছর সাধারণ ছুটি...

এক মাসে ২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজি এখন ২ হাজার ৬০ টাকা
০২ নভেম্বর ২০২৬

এক মাসে ২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজি এখন ২ হাজার ৬০ টাকা

এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টা...

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপ, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট
০২ নভেম্বর ২০২৬

নোয়াখালীতে নতুন গ্যাসকূপ, মজুদ প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ঘনফুট

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় নতুন গ্যাসকূপের সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই