অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। তিনি একই সঙ্গে নীতি, কৌশল ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে নতুন উদ্যোগ: সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্যই তদন্ত করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত না হওয়ায় আপাতত সরকারের পর্যবেক্ষণেই বিষয়গুলো দেখা হবে। কমিশন পুনর্গঠনের পর তাদের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হবে।
তিনি বলেন, শুধু অতীতের নয়, বর্তমান সরকারের সময়েও কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ব্যাংক খাত ও অর্থনৈতিক সংস্কার: ব্যাংক খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং পুনর্গঠনের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন আনা যাবে না, এতে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি জানান, ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
হামের টিকায় আগের সরকারের গাফিলতির অভিযোগ: হামের টিকা সংকটের জন্য আগের সরকারের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হয়েছে। ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশালে কার্যক্রম শুরু হবে। ৩ মে থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান শুরু হবে এবং ২১ মের মধ্যে ঈদের আগেই কার্যক্রম শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল এবং চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, “এ সংকট আমাদের সরকারের তৈরি নয়, তবে এর দায় আমাদের নিতে হচ্ছে।”
বৈশ্বিক সংকটে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি: মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় এই খাতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক বোঝা ছিল, যা এখনো রয়ে গেছে। তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে বিপুল বকেয়া রয়েছে। আইপিপির কাছে ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা, আদানি পাওয়ারের কাছে ২ হাজার ৯০৪ কোটি টাকা, যৌথ উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানের কাছে ৬ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার কাছে ১০ হাজার ৪৫ কোটি টাকা এবং সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির কাছে ৭ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহ পরিস্থিতি: তিনি জানান, বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার দেশীয় বাজার স্থিতিশীল রাখতে দাম সমন্বয় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফলে ভর্তুকি আরো বেড়েছে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহে কিছু তারতম্য থাকলেও বড় কোনো সংকট নেই বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত মজুত ও আতঙ্কজনিত ক্রয়ের কারণে বাজারে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সীমান্ত এলাকায় পাচারের ঝুঁকিও রয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা।
সানা/আপ্র/৭/৪/২০২৬